বিদায় ‘ডিনো’ জোন্স

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৩৮

অবশ্যই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের শেষ কথা ভিভিয়ান রিচার্ডস।

কিন্তু প্রসঙ্গ যখন ওয়ানডে ক্রিকেট, আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের কথা এলে এই মানুষটার কথাও বলতে হবে। অনেকে তো তাকে ওয়ানডে ব্যাটিংয়ের অগ্রদূত বলে থাকেন। এই যে ফাস্ট বোলারকে মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা মারা, ঝড়ের গতিতে উইকেটে দৌড়ানো; এসব ব্যাপার তার হাত ধরেই শিখেছে ক্রিকেট বিশ্ব।

হ্যাঁ, ডিন মারভিন জোন্স।

আগ্রাসি ব্যাটিংয়ের প্রতীক, অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট এবং হালে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ডিন জোন্স। গত কয়েক বছর ধরে ধারাভাষ্যের কল্যাণে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই মানুষটি আর নেই। মুম্বাইতে আইপিএলের ধারাভাষ্য দিতে এসেছিলেন। সেখানেই আকস্মিক ভয়ানক হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন ৫৯ বছর বয়সি জোন্স।

আইপিএলের চলতি আসর চলছে আরব আমিরাতে। কিন্তু স্টার ইন্ডিয়ার ধারাভাষ্য স্টুডিও বসানো হয়েছে মুম্বাইতে। সেখানেই সকালে নাস্তা করেছেন। এরপর আইপিএলের একটা শোতে অংশও নিয়েছেন। তার পর রুমে বিশ্রাম নিতে গিয়ে মারা গেছেন। একটা বিবৃতি দিয়ে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্টার ইন্ডিয়া।

ডিন জোন্সকে অনেকে অবশ্য মনে রাখবেন তার বিখ্যাত সেই ডাবল সেঞ্চুরির জন্য। চেন্নাইতে ভারতের বিপক্ষে ১৯৮৬ সালে ২১০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন টাই হওয়া টেস্টে। এর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও একটা ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। তার টেস্ট ব্যাটিংটাও খুব শান্ত ছিল না। তবে ক্রিকেট ইতিহাস জোন্সকে মনে রাখবে মূলত ওয়ানডে ব্যাটিংয়ের জন্য।

ফাস্ট বোলারের ডেলিভারিতে উইকেট ছেড়ে বের হয়ে আসা কিংবা বাউন্ডারির ফিল্ডারের মাথার ওপর দিয়ে হুক করে বল পাঠিয়ে দেওয়া; এসব ছিল তার ট্রেডমার্ক। দুর্দান্ত অ্যাথলেট ছিলেন। ফিল্ডিং আর রানিং বিটউইন দ্য উইকেটে তার প্রভাব পড়ত।

১৯৮৩-৮৪ গ্রীষ্মের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়া দল মূলত গ্রেগ চ্যাপেলের একজন বদলি খুঁজছিল। অবসরে যাওয়া এই কিংবদন্তির ফাকা চেয়ারে বসার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ভিক্টোরিয়ার তরুণ প্রতিভা জোন্সকে। এই বিশ্বাসের দারুণ প্রতিদান দিয়েছেন তিনি। ৫২ টেস্টে ৪৬.৫৫ গড়ে ৩ হাজার ৬৩১ রান করেছেন। ১৬৪ ওয়ানডেতে ৪৪.৬১ গড়ে রান করেছেন ৬ হাজার ৬৮।

অবসরের পর বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেছেন, কোচিং করিয়েছেন, বিশ্লেষক হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০১৫ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত পিএসএল দল ইসলাবাদের কোচ ছিলেন। ২০১৭ সালে আফগানিস্তানের কোচ ছিলেন স্বল্প সময়ের জন্য। আর ধারাভাষ্য তো দিয়েছেনই।

এক কথায় বলা চলে আমৃত্যু ক্রিকেটের সেবক ছিলেন। যে ক্রিকেট দিয়ে মানুষ তাকে চেনে, সেই ক্রিকেটের কাজ করতে করতেই চলে গেলেন।

বিদায়, ডিনো।