তিস্তার পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নীলফামারীর ডিমলা ও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেশ কিছু গ্রাম নতুন করে বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ১৬ হাজার পরিবার।
ডিমলা (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর ডিমলায় কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে বিপত্সীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বুধবার সকাল থেকেই পানি বাড়তে শুরু করে এবং সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিপত্সীমা অতিক্রম করে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
জেলার ডিমলা উপজেলার নদীবেষ্টিত খগাখড়িবাড়ী, পূর্বছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশাচাপানী, ঝুনাগাছচাপানী, পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের প্রায় ৮ হাজার পরিবারের বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ঝুনাগাছচাপানি ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ছাতুনামা ভেণ্ডাবাড়ী ও ফরেস্টের চরের পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলন, ‘তিস্তার পানি বিপত্সীমা অতিক্রম করায় আমার ইউনিয়নের আটটি গ্রাম বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে।’ বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায়।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজের সব কটি জলকপাট (৪৪) খুলে রাখা হয়েছে।
গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, তিস্তায় নতুন করে পানি বৃদ্ধির কারণে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। পানির প্রবল চাপে গজঘণ্টা ইউনিয়নের ছালাপাক এলাকায় সদ্যনির্মিত একটি বাঁধ ভেঙে গিয়ে ঐ ইউনিয়নের গাউছিয়া বাজার, রাজবল্লব, একনাথ, জয়দেব মর্নেয়া ইউনিয়নের আলালচর, নিলারপাড়া, ভাঙ্গাগড়া, তালপট্টি এলাকার ৩ হাজার পরিবার নতুন করে পানিবন্দি হয়েছে। তাছাড়া তিস্তা ব্যারাজের ভাটি এলাকা নোহালী ইউনিয়নের নোহালী, চর নোহালী, বাগডোহরা, মিনার বাজার, চর বাগডোহরা ও নোহালী সাপমারী, আলমবিদিতর ইউনিয়নের হাজীপাড়া ও ব্যাংকপাড়া, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল, উত্তর চিলাখাল, মটুকপুর, বিনবিনা মাঝের চর, সাউদপাড়া ও বাবুরটারী বাঁধের পাড়, গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের ধামুর ও গান্নারপাড়, লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের শংকরদহ, বাগেরহাট পূর্ব ইচলী, জয়রামওঝা, পশ্চিম ইচলী, মহিপুর ও কলাগাছি এলাকায় আরো ২ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের ঘরে খাবার থাকলেও তারা রান্না করতে পারছে না। পানিবন্দি লোকজন অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছে। পানিবন্দি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মালিকেরা। বন্যায় ভেসে গেছে অনেকের পুকুরের মাছ। বিনবিনা ও পূর্ব ইচলি এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দেওয়ায় লোকজন বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে। গত দুই দিনে প্রায় ৫০ পরিবারের বাড়িঘর তিস্তায় বিলীন হয়েছে।
মর্নেয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী আজাদ বলেন, ‘ছালাপাকে বাঁধ ভাঙার কারণে আমার ইউনিয়নে প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। পাকা রাস্তা হুমকির মুখে।
কোলকোন্দ ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন রাজু জানান, চিলাখাল, সাউথপাড়া, আলেকিসামত, বিনবিনা এলাকায় অন্তত ১ হাজার ২০০ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। লক্ষ্মীটারি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, তার ইউনিয়নের শংকরদহ, ইচলি, জয়রামওঝা ও বাগেরহাটে আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
উপজেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত কোলকোন্দ ইউনিয়নে ৫ টন চাল ও ২০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নে ৫ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
