ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম ভাঙনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আগামীকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বর্ধিত সভা ডেকেছেন দলটির তিন নেতা- সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু এবং সাবেক নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। গণফোরামের প্যাডেই সকাল ১০টায় অনুষ্ঠেয় এ সভায় দলের জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, যুগ্ম-আহ্বায়ক, সদস্যসচিব ও সংগঠকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়াসহ কয়েকজনকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।
দলে ভাঙন রোধে গত মঙ্গলবারও সুব্রত চৌধুরীকে নিজের বেইলি রোডের বাড়িতে ডেকে কথা বলেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তবে সৃষ্ট মতবিরোধ নিরসন না হওয়ায় শনিবার বর্ধিত সভা আয়োজনের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন তিন নেতাসহ তাদের অনুসারীরা। এর আগে ২৩ আগস্টও ড. কামালের বাসায় তিন নেতা বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকেও সমঝোতা হয়নি। আগামীকালের সভায় রেজা কিবরিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো না হলেও ড. কামালকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ড. কামালও এ সভায় যাচ্ছেন না। বরং ড. কামাল ও রেজা কিবরিয়া মঙ্গলবার এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, এ বর্ধিত সভার সঙ্গে গণফোরামের কোনো সম্পর্ক নেই।
এদিকে, রাজধানীর আরামবাগে ইডেন কমপ্লেক্সে দলের দীর্ঘদিনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টিও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ড. কামাল নতুন করে পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভাড়া নিয়েছেন। আর ছেড়ে দেওয়া কার্যালয়টি নতুন করে ভাড়া নিয়েছেন সুব্রত চৌধুরী, মন্টু ও অধ্যাপক আবু সাইয়িদরা।
এবছরের গোড়ার দিকে সৃষ্ট অচলাবস্থার জের ধরেই শেষ পর্যন্ত ভাঙনে রূপ নিচ্ছে গণফোরাম। পালটাপালটি বহিষ্কারের জেরে ৪ মার্চ দলের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করেও সংকট কাটানো সম্ভব হয়নি। নানা ঘটনা পরম্পরায় কার্যত রেজা কিবরিয়ার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি ঐ তিন নেতাসহ তাদের অনুসারীরা। সুব্রত চৌধুরীর মন্তব্য, রেজা কিবরিয়া অগণতান্ত্রিক ও অগঠনতান্ত্রিকভাবে দল পরিচালনা করছেন।
অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ফয়সালা করতেই আমরা ২৩ আগস্ট বৈঠকে বসেছিলাম। তবে ফয়সালা হয়নি। এ পরিস্থিতিতে করণীয় ঠিক করতে আমরা সারাদেশের নেতাদের শনিবার ঢাকায় ডেকেছি। দেখা যাক তারা কী পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ২৭ বছর ধরে আমরা এ দলটি করছি, এখন আমরা দলের কেউ না! এক প্রশ্নের জবাবে সুব্রত চৌধুরী বলেন, দলের নেতারাই করণীয় ঠিক করবেন।
ড. রেজা কিবরিয়া ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের বর্তমানে যে আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে সেখানে সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু ও অধ্যাপক আবু সাইয়িদ নেই। কাজেই তাদের এ ধরনের কোনো বৈঠক ডাকারও অধিকার নেই। তাদের বিরুদ্ধে যদি কোনো ব্যবস্থা নিতে হয় সেটি দলীয় ফোরামে আলোচনা করেই নেওয়া হবে।
