নারায়ণগঞ্জে কথিত ‘ধর্ষণ ও হত্যা’র পর কিশোরীর ফেরা

বিচারিক তদন্তের নির্দেশ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৩১

কথিত ‘ধর্ষণ শেষে হত্যা’ মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ের পর এক কিশোরীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে ঐ ঘটনা তদন্ত করে আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। ঐ প্রতিবেদন দাখিলের পর ৫ নভেম্বর এ বিষয়ে আদেশ দেবে হাইকোর্ট। এসংক্রান্ত রিভিশন মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। আদেশে হাইকোর্ট বলেছে, বিচারিক তদন্তের সময় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, মামলার           বাদী, আসামি, ভিকটিমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলবেন। আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণ করবেন। উক্ত তদন্ত চলাকালে আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণের সময় তারা চাইলে আইনজীবী নিয়ে উপস্থিত থাকতে পারবেন। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে তাদের আইনজীবারাও উপস্থিত থাকতে পারবেন।

“‘?ধর্ষণের’ পর নদীতে মরদেহ ফেলে দেওয়া স্কুলছাত্রী ৪৯ দিন পর জীবিত প্রত্যাবর্তন” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্টে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১(ক) ধারায় রিভিশন মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. শিশির মনির। আবেদনে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা মামলা এবং মামলা-পরবর্তী প্রক্রিয়ার শুদ্ধতা, বৈধতা ও যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা হয়। পাশাপাশি সেই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের রিমান্ড ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে যথাযথ আদেশ দেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জানান। ঐ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার নথি নিয়ে বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তাসহ সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা শামীম আল হোসাইন গত ১৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে হাজির হন। ঐ দিন শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গতকাল আদেশের জন্য ধার্যকৃত দিনে এই আদেশ দেওয়া হলো।

আইনজীবী মো. শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, এটা যুগান্তকারী আদেশ। সাধারণত বক্তব্য বা জবানবন্দি নেওয়ার সময় আইনজীবীদের রাখা হয় না। কিন্তু বিচারিক তদন্তের সময় আইনজীবী উপস্থিতির কথা বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সিআরপিসির ১৬৪ ধারার জবানবিন্দ গ্রহণের সময় আসামির আইনজীবীর উপস্থিতি এবং অডিও-ভিডিও রেকর্ডিংয়ের আবেদন করেছি। আদালত কী নির্দেশনা দেন, তা পরবর্তী আদেশে বোঝা যাবে।’

প্রসঙ্গত :গত ৪ জুলাই ১৫ বছর বয়সি কিশোরী জিসা মনি নিখোঁজের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় জিডি ও পরে মামলা করে তার পরিবার। ঐ মামলায় পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব ও খলিলুর নামে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের রিমান্ড শেষে তারা ৯ আগস্ট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তারা বলেছিলেন, জিসা মনিকে তারা অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই শামীম আল হোসাইন। ঐ ঘটনার ৫১ দিন পর গত ২৩ আগস্ট ঐ কিশোরী ফিরে আসে। ঐ কিশোরী আদালতে বলেছে, ইকবাল নামের এক যুবককে বিয়ে করে বন্দর এলাকার এক ভাড়াবাড়িতে সংসার করছিল তারা। কিন্তু ঐ কিশোরী ফিরে আসার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপরই হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করলে হাইকোর্ট বিচারিক তদন্তের নির্দেশ দেয়। আদালতে রিভিশন আবেদনের পক্ষে আইনজীবী মো. শিশির মনির ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন বাপ্পী শুনানি করেন।