যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য দেশে সৌদি আরবের নির্বাসিত একদল নাগরিক একটি ‘বিরোধী রাজনৈতিক দল’ গঠন করেছে। সৌদিতে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা এই উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান। সৌদি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোনো পক্ষের এটাই প্রথম প্রকাশ্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ। তারা বাদশাহ সালমানের শাসনকে রাজনৈতিভাবে মোকাবিলার অঙ্গীকার করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের কট্টর রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সৌদি আরবে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিরোধিতা সহ্য করা হয় না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের প্রতি ক্রমবর্ধমান দমনপীড়নের অভিযোগ তুলে ২৩ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে নির্বাসিত সৌদিরা ‘ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পার্টি’ নামের নতুন এই দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী ইয়াহিয়া আসিরি নতুন রাজনৈতিক দলটির প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া শিক্ষাবিদ মাদায়ি আল-রশীদ, গবেষক সাঈদ বিন নাসের আল-ঘামদি ও যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত আব্দুল্লাহ আল আওধ ও কানাডায় নির্বাসিত ওমর আব্দুল আজিজ দলটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধর এই দেশটিতে এর আগে ২০০৭ ও ২০১১ সালে রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। কারণ ক্ষমতাসীন রাজপরিবার সেসময় রাজনৈতিক দল গঠনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং কয়েক জনকে গ্রেফতার করে।
বুধবার নির্বাসিত সৌদিদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি পার্টি গঠনের ঘোষণা দিচ্ছি—যার লক্ষ্য সৌদি আরবে গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাসিত নাগরিকদের একটি রাজনৈতিক দল সৌদির প্রভাবশালী রাজপরিবারের কর্তৃত্বকে দুর্বল করে দেবে এমন সম্ভাবনা কম। তবে এটি শাসকগোষ্ঠীর জন্য এক ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েই যাবে।
