জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

পৃথিবী রক্ষায় পাঁচ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০:৫১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার পৃথিবীকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে রক্ষা করার জন্য পাঁচ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করে জোরালো আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ অধিবেশনের (ইউএনজিএ) সাইডলাইনে জলবায়ুুসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের একটি ভার্চুয়াল গোলটেবিল আলোচনায় এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রস্তাবনায় বলেন, ‘এক. জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে পৃথিবীকে ও নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমি রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অবশ্যই জোরালো আন্তর্জাতিক সহযোগিতা উত্সাহিত করার পরামর্শ দেব। দুই.  বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখতে হবে এবং সমস্ত প্যারিস প্রবিধান বাস্তবায়ন করতে হবে। তিন. দুর্বল দেশগুলোকে প্রতিশ্রুত তহবিল সরবরাহ করতে হবে। চার. দূষণকারী দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রশমনব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের এনডিসি (জাতীয় নির্ধারিত অবদান) বাড়াতে হবে। পাঁচ. জলবায়ু শরণার্থীদের পুনর্বাসন একটি বৈশ্বিক দায়িত্ব হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ জানানোয় জাতিসংঘের মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অভিযোজন ও সহিষ্ণুতার বিষয়ে বিনিময় করার মতো কিছু ধারণা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জল ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমরা বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ প্রস্তুত করেছি। সরকার দেশে ৪ হাজার ২৯১টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র এবং ৫২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করেছে এবং যে কোনো ঘূর্ণিঝড়ের আগে প্রস্তুতি সহজ করতে ৫৬ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রাপ্তি নিশ্চিত করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “এজন্য আমরা ‘রিপ’-এর (ঝুঁকি-অবহিত আর্লি অ্যাকশন পার্টনারশিপ) উদ্যোগে অংশ নিয়েছি, যার লক্ষ্য ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্ব জুড়ে এক বিলিয়ন মানুষকে বিপর্যয় থেকে নিরাপদ করা।” এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সিভিএফ (জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত ফোরাম)-এর বর্তমান চেয়ার এবং সম্প্রতি ঢাকায় গ্লোবাল সেন্টার অব অ্যাডাপ্টেশনের আঞ্চলিক কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস গোলটেবিলটি আহ্বান করেন এবং যুক্তরাজ্যের সাংবাদিক ফেমি ওকে এটি পরিচালনা করেন।

৯০ মিনিট স্থায়ী এই গোলটেবিল বৈঠকে জাতিসংঘের মহাসচিব সূচনা ও সমাপনী বক্তব্য রাখেন, যেখানে সারা বিশ্বের সরকারি-বেসরকারি খাত ও নাগরিক সমাজের প্রায় ২০ জন জলবায়ু নেতা অংশ নেন। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন টুডো, ইতালির প্রধানমন্ত্রী গিউসেপে কঁতে, চিলির প্রেসিডেন্ট সেবাস্তিয়ান তিনেরা ইচেনিক, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মাহামাদু ইসুফৌ, ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন্ডারলেইন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ড. লোটে সেরিং উচ্চপর্যায়ের এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।