ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বাজেয়াপ্ত গরুকে বাছুর দেখিয়ে কম দামে নিলাম এবং বিভিন্ন সময়ে পাচারে সহায়তার অভিযোগে বিএসএফের দুই অফিসারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ভারতের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। গত বুধবার কলকাতায় এক অফিসারের ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়। কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের ১৫ জায়গায় তদন্ত ও তল্লাশিতে উঠে এসেছে আরো ১২ অফিসারের নাম।
সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, সতীশ কুমার নামে বিএসএফের এক কমান্ড্যান্টের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। তিনি এখন ছত্তিশগড়ের রায়গড়ে কর্মরত। তদন্তে জানা গেছে, সতীশ কুমারের যোগাযোগ ছিল গরু পাচারকারীদের সঙ্গে। সীমান্তে বাজেয়াপ্ত হওয়া গরু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিলামে তোলা হতো এবং সেগুলোকে খাতা-কলমে বাছুর দেখিয়ে দাম কম দেখানো হতো। এর ফলে ভারত সরকারের খাতায় নিলাম বাবদ কম অর্থ আসত। অনেক সময় সীমান্তে ‘?সেফ’? করিডর তৈরি করারও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এনামুল হক নামে এক ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীর সঙ্গে সতীশ কুমারের যোগসাজশ ছিল। গরু বাজেয়াপ্ত হলেই তাকে খবর দেওয়া হতো। গত বুধবার ঐ বিএসএফ অফিসারের বাড়িতে তল্লাশির পাশাপাশি এনামুলের বাড়িতেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। চক্রে একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
২০১৮ সালে ভারতের কেরালায় আয়ের সঙ্গে সংগতিহীন নগদ প্রায় ৫০ লাখ টাকা নিয়ে সিবিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখার হাতে গ্রেপ্তার হন বিএসএফের আরেক কমান্ড্যান্ট জিবু ডি ম্যাথিউ। তিনি তখন বিএসএফের ৮৩ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বে ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তিনিও মালদায় কর্মরত ছিলেন। তাকে জেরার সূত্র ধরেই সতীশ কুমারের নাম উঠে আসে। সেই সময় এনামুল গ্রেপ্তার হয়েছিল। পরে জামিন পেয়ে যায়। ফের তার খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
