৩৫ লাখ গাছ বিক্রি করে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রদান করলেই মিলবে জামিন। ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীনের আইনজীবীদের এমন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে শর্তসাপেক্ষে জামিনে তার মুক্তির আদেশ দিয়েছিল আপিল বিভাগ। প্রায় চার বছর পেরিয়ে গেলেও ঐ আদেশ প্রতিপালন করেননি রফিকুল আমীন। এখন অসুস্থতার গ্রাউন্ডে নতুন করে জামিন চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন তিনি। ঐ আবেদনের শুনানিকালে গতকাল বৃহস্পতিবার ডেসটিনির আইনজীবীর উদ্দেশ্যে আপিল বিভাগ বলেছে, ‘আপনার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ। এই অর্থ কাদের? আমরা তো আপনাকে শর্তসাপেক্ষে জামিনের সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু আপনি সেটা গ্রহণ করেননি? আপনি তো প্রতিজ্ঞা করেছেন গ্রাহকের এক পয়সাও ফেরত দেবেন না।’ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ জামিন শুনানিকালে এ মন্তব্য করে।
শুনানিতে রফিকুল আমীনের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু বলেন, ‘ডেসটিনির ৫০ লাখ গ্রাহক আছে। এদের কেউ অর্থ তছরুপের অভিযোগ না করলেও দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তিনি আট বছর ধরে কারাগারে আছেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ। জামিন দরকার। মরে গেলে কার বিচার করবেন?’ তিনি বলেন, কারাগারে থেকে ৩৫ লাখ গাছ বিক্রি করে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কি ছয় সপ্তাহের মধ্যে দেওয়া সম্ভব? প্রধান বিচারপতি বলেন, আপনার (ডেসটিনি) বক্তব্য গ্রহণ করেই আমরা ঐ আদেশ দিয়েছিলাম। বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, আপনি এখন পর্যন্ত একটি পয়সাও দেননি। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বলেন, জেলের বাইরে এসেও যদি অর্থ দিতে না পারেন তাহলে জামিন দিয়ে কি হবে? মতিন খসরু বলেন, আমি মরে গেলে কার বিচার করবেন?
জামিনের বিরোধিতা করে দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান বলেন, এই মামলায় ১৭২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। হাইকোর্ট মামলাটি ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে বলেছে। ওনারা অভিযোগ করেছেন আট বছর ধরে রফিকুল আমিন জেলে আছেন, কিন্তু এই আট বছরের মধ্যে ছয় বছরই হাসপাতালে কাটিয়েছেন। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা অর্থ পাচারের মামলা হয়েছে। ডেসটিনির গ্রাহকরা কেন মামলা করবেন? উনি একজন কানাডিয়ান নাগরিক। জামিন পেলে পালিয়ে যেতে পারেন।
জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুরাদ রেজা বলেন, গাছেরই তো অস্তিত্ব নাই। আর এই গাছ কি রফিকুল আমীনের? ডেসটিনি অপরাধ করেছে। আর ডেসটিনির এমডি হিসেবে সেই অপরাধের দায় উনার। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশ না মেনে নতুন জামিনের আবেদন নিয়ে আসলেন কীভাবে?
শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রবিবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করে দিয়েছেন।
সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীন, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক। ঐ মামলায় রফিকুল আমীনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর শর্ত সাপেক্ষে জামিনে মুক্তির আদেশ দেয় আপিল বিভাগ। পরবর্তীকালে ঐ আদেশের সংশোধন চেয়ে দুটি আবেদন করলেও তা খারিজ করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত।
