করোনোয় মৃত্যু হলো আরেক কিংবদন্তির

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৫২

করোনা কেড়ে নিলো আরো এক সংগীতের মহীরূহকে। টানা ৫২ দিনের যুদ্ধ শেষে মৃত্যুর কাছে হেরে গেলেন ভারতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী এসপি বালাসুব্রহ্মণ্যম। সর্বশেষ তিনি করোনা ভাইরাস নিয়ে একটি গান রচনা করেছিলেন। তার গানের মাধ্যমে তিনি সবার মাঝে সচেতনতা প্রচার শুরু করেছিলেন। গানটি বেশ পছন্দ করেছিলেন তার ভক্তরা। অথচ নিজেই করোনা ভাইরাসের কাছে হেরে গেলেন! গতকাল দুপুর ১টা নাগাদ চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। গত ৫ আগস্ট করোনা আক্রান্ত হলে চেন্নাইয়ের বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ১ মাস পর ৮ সেপ্টেম্বর তার করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু তা সত্ত্বেও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে তাকে ভেন্টিলেটর থেকে বের করা যায়নি। পরের দিকে তাকে ভেন্টিলেটরের পাশাপাশি একমো সাপোর্ট দেওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মনে করা হচ্ছিল তার অবস্থার উন্নতি ঘটছে। গত মঙ্গলবার শিল্পীর পুত্র এসপি চরণ টুইট করে জানিয়েছিলেন, তার বাবার অবস্থার ক্রমশই উন্নতি হচ্ছে। তার বাবা বাড়ি ফিরতে চাইছেন। কিন্তু বুধবার চেন্নাইয়ের হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট মেডিক্যাল ডিরেক্টর অনুরাধা ভাস্করনের স্বাক্ষরিত বুলেটিনে জানান হয়, ‘২৪ ঘণ্টায় ওর অবস্থার অবনতি ঘটেছে। তিনি অত্যন্ত সঙ্কটাপণ্ন। তাকে সর্বোচ্চ লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।’ তার সঙ্কটাপণ্ন হওয়ার খবর পেয়েই হাসপাতালে গিয়েছিলেন দক্ষিণী ছবির প্রবীণ অভিনেতা কমল হাসন। দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছিলেন ইন্ডাস্ট্রির সহকর্মী এবং অজস্র অনুরাগীরা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। দীর্ঘ লড়াইয়ে অবশেষে গতকাল হার মানেন তিনি। বর্ষীয়ান এই সংগীতশিল্পীকে বলিউড সুপারস্টারদের লাকি নম্বর বলা হতো। বিশেষ করে সালমান খানের লিপে তার কণ্ঠ ছিল দর্শক-শ্রোতাদের কাছে ভীষণ ভালোলাগার। কিন্তু শিল্পীর সঙ্গে সালমানের অভিমান ও দূরত্ব নিয়েও গণমাধ্যমে বেশ চর্চা হয়েছে। ১৯৪৬ সালের ৪ জুন মাদ্রাজে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল বিশেষ অনুরাগ। ১৯৬৬ সালে ‘শ্রী শ্রী মর্যাদা রামান্না’ নামে এক তেলুগু ছবির মধ্যে দিয়েই সংগীত জগতে পা রাখেন। এরপর একে একে নানা হিন্দি, তামিল, তেলুগু ছবিতে গান গেয়ে ইন্ডাস্ট্রির প্রথমসারির গায়কের তকমা পেয়ে যান এসপি। ১ দিনে ২১টি গান রেকর্ড করার রেকর্ড রয়েছে তার ঝুলিতে। সালমান খানের বলিউডে উত্থান মূলত  এসপির হাত ধরেই। ১৯৮৯ সালে ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ ছবির মাধ্যমে নায়ক হিসেবে বলিউডে আত্মপ্রকাশ সালমান। সেই ছবিতে সালমানের ঠোঁটের সব ক’টি গানই বালাসুব্রহ্মণ্যমের গাওয়া। এরপর ১৯৯১ সালে ‘পাত্থর কে ফুল’ ছবিতে ৭টি গানে গলা দেন বালাসুব্রহ্মণ্যম। এর মধ্যে ‘কভি তু ছালিয়া লগতা হ্যায়’ ও ‘তুমসে জো দেখতে হি প্যায়ার হুয়া’ গান দুটি সুপারহিট হয়। সেই বছর ‘সাজন’ ছবিতে এসপি’র গলায় গাওয়া ‘বহুত প্যায়ার করতে হ্যায়’, ‘তুমসে মিলনে কি তমন্না হ্যায়’, ‘পহেলি বার মিলে হ্যায়’ আজও শ্রোতাদের মনে ভাস্বর। এসপি বালাসুব্রহ্মণ্যমের মৃত্যুতে ইন্ডাস্ট্রিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এ আর রহমান থেকে অক্ষয় কুমার, লতা মঙ্গেশকর, মহেশ বাবু শোকপ্রকাশ করেছেন প্রিয় গায়কের মৃত্যুতে। ভেঙে পড়েছেন সালমান খানও। তিনি টুইটারে লেখেন, ‘এই খবরে হূদয় ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। আপনার কাজের মধ্য দিয়েই আপনি বেঁচে থাকবেন। পরিবারের প্রতি সমবেদনা।’

এ আর রহমান:আমার ভীষণ খারাপ লাগছে। এমন ইউনিক ভয়েস এই বিশ্বে খুব কম।

লতা মুঙ্গেশকর : সত্যিই আর নিতে পারছি না। তুমিও চলে গেলে!

মহেশ ভাট:যখন শুনলাম সুস্থ হয়ে উঠছো। সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। খুব জলদিই বাড়িতে গিয়ে দেখা করবো। সে সুযোগ দিলে না।

কমল হাসান:হাসপাতালের দেখাটাই যে শেষ হবে কে জানতো! ভালো থেকো।

আমির খান:এমন ব্যক্তিত্ববান মানুষ আমি কম দেখেছি। আপনাকে আরো প্রয়োজন ছিল।

শাহরুখ খান:এ একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি। কিন্তু এভাবে এই সময়ে হবে বুঝিনি। আত্মার শান্তি কামনা করছি।