গত পাঁচ দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফুলবাড়ীর স্বাভাবিক জীবনযাপন। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছে না। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে পথশিশু ও নিম্ন আয়ের মানুষ। এদিকে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফুলবাড়ীর সব নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
জানা যায়, গত সোমবার থেকে অনবরত গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। সেই সঙ্গে ক্ষণে ক্ষণে মেঘের গর্জনের সঙ্গে বিদ্যুত্ ঝলকানি। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে সাহস পায়নি। কেউ কেউ বের হলেও অধিকাংশ সময় ফিরছেন কাকভেজা হয়ে।
ঠেলাচালক বাবলু চন্দ্র রায় ও ভ্যানচালক জহুরুল হক জানান, গত পাঁচ দিন ধরে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে কাজে যেতে পারছি না। যা জমানো ছিল সব শেষ। আজকালের মধ্যে বৃষ্টি বন্ধ না হলে আমাদের পেটে ভাত যাবে না। দিনমজুর কাশেম আলী ও ছাইদুল ইসলাম জানান, এভাবে বৃষ্টি হতে থাকলে মরণ ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। গত পাঁচ দিন থেকে বৃষ্টির কারণে কাজে যেতে পারছি না। একটানা বৃষ্টি হচ্ছেই। কাজ করতে না পারলে না খেয়ে থাকতে হবে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এ বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ এলাকায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার সব কয়টি নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালকা ও মাঝারি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, শুক্রবার বিকাল ৩টায় উপজেলার শিমুলবাড়ী এলাকায় শেখ হাসিনা ধরলা সেতু পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপত্সীমার ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
