জুরাইনে রেললাইনের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ বাজার

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৪

কী নেই, আছে সবই। থরে থরে সাজানো হরেক সবজি, ফলমূল, হাঁড়ি-পাতিল, প্যান্ট-শার্ট, সস্তা দামের ফার্নিচারের দোকান।  রয়েছে অসংখ্য চা ও শরবত বিক্রেতার দোকান। ক্রেতাদের ভিড়ে  পরিবেশ অনেকটা গ্রামীণ মেলার মতো। নানা রঙের পলিথিন টাঙিয়ে ঘুপচি ঘরের মতো ছাউনি দিয়ে পণ্য বিক্রি করছে দোকানদাররা। আবার কেউ কেউ পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন রেললাইনের পাশে। না এটি গ্রামে নয়; খোদ  রাজধানীর জুরাইনে  রেললাইনের পাশে এ ভাসমান ঝুঁকিপূর্ণ বাজারটি বারবার উচ্ছেদের পরও আছে বহাল তবিয়তে। অভিযোগে রয়েছে, রেললাইন দখল করে গড়ে তোলা ভাসমান বাজারের দোকানদারদের কাছ থেকে সরকার দলীয় বিভিন্ন সংগঠনের নামে একাধিক চক্র দৈনিক মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করে থাকে। রেলওয়ের ভূমি বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিয়মিত পেয়ে থাকেন এর ভাগ। আর তাদের কারণেই উচ্ছেদ বহাল রাখা যায় না। অথচ রেলওয়ে পুলিশের হিসাব মতে, গত বছর রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৪০০ জন। দুর্ঘটনার বেশির ভাগই ঘটেছে রেললাইনের ওপর দিয়ে অবৈধভাবে যাতায়াত এবং অসাবধানতার কারণে।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের রেল রুটের শ্যামপুর রেললাইনের দুই পাশে গড়ে ওঠা এ ভাসমান বাজার বেশ কয়েকবার তুলে দেওয়া হলেও আবারও ফিরেছে আগের অবস্থানে। জুরাইন এলাকায় রেললাইন ঘেঁষে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত গড়ে উঠেছে এ কাঁচাবাজার। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে রেল চলাচল বন্ধ থাকায় কয়েক মাস দোকানিরা বিনা বাধায় দোকানদারি করেছেন। সম্প্রতি এ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। কাঁচামাল বিক্রেতা আবুল কাশেম বলেন, ‘প্রতিদিন ১০০ টাকা দিয়ে দোকান বসাই। তবে বিভিন্ন সময় উচ্ছেদের পর দোকান বসাতে বেশি টাকা লাগে।’

এ ব্যাপারে ঢাকা রেলওয়ে বিভাগের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, বেশ কয়েকবার জুরাইনের এ বাজার উচ্ছেদ করা হয়েছে। সকালে বাজার উচ্ছেদ করলে বিকালেই মালামাল নিয়ে রেললাইনের পাশে আবার বসে পড়ে তারা। তবে তিনি বলেন, খুব দ্রুতই এ বাজার উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে। অপরদিকে রেল নিরাপত্তা বাহিনীর (ঢাকা) বিভাগের সহকারী কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, বিষয়টি তারা দেখভাল করেন না। উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় তারা সহায়তা দেন মাত্র। ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি রকিব উল হোসেন বলেন, রেললাইনের গা ঘেঁষে গড়ে ওঠা বাজার উচ্ছেদের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, দ্রুত উচ্ছেদ করা হবে।