এক ছবিতেই জীবন বদল

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৫

সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন। পথশিশুদের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, হতদরিদ্র মানুষের সুস্বাস্থ্য ও চিকিত্সা, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিত্সা এবং রক্তদান—এই চারটি ক্ষেত্রে কাজ করছে ‘সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন’। দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুটি শিশু তাদের অসুস্থ মায়ের মাথায় পানি ঢালার একটি ছবি ভাইরাল হয়। তা দেখে অনেকেই এই শিশুদের সহযোগিতা করার জন্য যোগাযোগ করেন ছবিটি শেয়ারদানকারী পারভেজ হাসানের সঙ্গে।

পারভেজ হাসান তাদের আর্থিক সহযোগিতা না করে ভবিষ্যতের ভিত স্থাপনে পড়াশুনা ও  পরিবারটির আয়ের ব্যবস্থার কথা ভাবেন। শিশু দুটি ও  তাদের মাকে নিয়ে একটি ভিডিওচিত্র শেয়ার করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, কীভাবে নদী ভাঙনকবলিত কুড়িগ্রামের এই পরিবারটি ঢাকায় আসে। যা দেখে কুড়িগ্রামের ডিসিসহ অনেকেই তার স্বপ্ন পূরণে একাত্ম হন। আজ সেই শিশুদের গ্রামের বাড়িতে পাকাঘর, গরু আর মোটরবাইকসহ অনেক কিছুই আছে। শিশু আকলিমা আর ফরিদুর স্কুলে যাচ্ছে। পারভেজ জানান ‘একটি ছবি দিয়ে ওদের জীবনমান পরিবর্তনই আমাকে সাংগঠনিকভাবে এমন অনেক শিশুর প্রতি কাজ করতে উত্সাহ দেয়। এর আগে আমি সাধ্য অনুযায়ী পথশিশুদের পড়াশুনা আর খাওয়ার ব্যবস্থা করতাম। আমার নিজের জীবনেও আছে অর্থের অভাবে পড়তে না পারার কষ্ট। আমার কাজের সঙ্গে  দেশ-বিদেশ থেকে যুক্ত হন অনেক হূদয়বান মানুষ। ২০১৮ সালের মে মাসে চলতে শুরু করে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গঠনের স্বপ্ন পূরণে অবদান রাখার সংগঠন ‘সহমর্মিতা ফাউন্ডেশন’।

পারভেজ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, একমাত্র যুবসমাজই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারেন। কারণ তারা বিশ্ব পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখে। সংগঠনটির মূলমন্ত্রই হচ্ছে শিক্ষার মাধ্যমে দারিদ্র্য চক্র ভেঙে জাতিকে পুনর্গঠন করা। এটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কথা দেশে-বিদেশে তুলে ধরতে সমাজের যুবক শ্রেণির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো। তাই যুবকরাই সহমর্মিতার প্রাণ। যুবশক্তিকে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশকে শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতা দূর করাই তাদের লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সংগঠনটি বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে অবৈতনিক ও আনুষ্ঠানিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রান্তিক শিশুদের পড়ালেখায় উত্সাহিত করছে সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পারভেজ হাসান।