২৯ বছর পর হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি হিসেবে নির্বাচিত হন নুরুল হক নুর। কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে উঠে আসা এই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে মামলা হয়েছে দুটি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী এই মামলা করেন। দীর্ঘদিন আলোচনায় না থাকলেও হঠাত্ এ ধর্ষণ মামলা নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। গতকাল মোবাইল ফোনে ইত্তেফাকের সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছিলেন নুরুল। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা আরফিন শরিয়ত।
ইত্তেফাক : আপনাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ কেন এলো?
নুর : আমাদের বিরুদ্ধে সরকার এ ধরনের কাজ শুধু এখনই করছে না। আগেও এগুলো করে আসছে। সরকার ও ছাত্রলীগের নেতাদের প্ররোচনায় এ ধরনের কাজ করেছে ঐ ছাত্রী।
ইত্তেফাক : মূল অভিযুক্ত হাসান আল মামুনের অবস্থান কী?
নুর : হাসান আল মামুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তোলা হয়েছে। কিন্তু মামলার পর থেকে তার সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে নাকি, গুম করা হয়েছে—তা এখনো আমরা জানি না।
ইত্তেফাক : আপনারা নিজেদের অন্যায়ের সঙ্গে আপসহীন দাবি করেন। কিন্তু গ্রেফতার হওয়ার দিন নিঃশর্তভাবে মুক্ত না হয়ে মুচলেকা দিয়ে বের হলেন কেন?
নুর : ওইটা মুচলেকা ছিল না। শুরুর দিকে যখন ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় তখন আমি ‘সেন্সলেস’ ছিলাম। ঢাকা মেডিক্যালে জ্ঞান ফেরার পর তারা জানালেন, ওপরের নির্দেশে আমাকে ধরা হয়েছে এবং ছেড়ে দেওয়া হবে। এর জন্য তো একটা প্রক্রিয়া প্রয়োজন। সেজন্য কাগজে স্বাক্ষর করতে হবে।
ইত্তেফাক : আপনাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় ড. কামাল আইনি সহায়তা দেবেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এর সত্যতা কতটুকু?
নুর : সরকার শুরু থেকেই নানাভাবে আমাদের হয়রানি করে আসছে। এ কারণে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষ আমাদের সঙ্গে থেকেছে, সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছে। সরকার যেহেতু মিথ্যা, ভিত্তিহীন মামলা করেছে আমরা রাজনৈতিকভাবে মামলাগুলো মোকাবিলা করব। এরপরও ড. কামাল হোসেনের এমন অবস্থানকে ধন্যবাদ জানাই।
ইত্তেফাক : আপনারা গণমুখী রাজনীতির কথা বলছেন, এর স্বরূপ কেমন হবে?
নুর : কোনো সরকার ৫০ বছরেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারেনি। যে কারণে মানুষের মনে এক ধরনের হতাশা ও রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে মানুষের মনে বিরক্তি রয়েছে। যেহেতু তারা বারবার গণতন্ত্রের শাসনের কথা বলে ক্ষমতায় এলেও তারাই আইনের শাসনকে ধূলিসাত্ করেছে ও গণতন্ত্রকে সংকটে ফেলেছে। সেখান থেকে বের হয়ে আমরা ‘আইনের নৈতিক শাসন’, পরমতসহিষ্ণুতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব।
ইত্তেফাক : বর্তমান ছাত্ররাজনীতিকে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি হিসেবে দাবি করেন। আপনাদের সংগঠনে লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
নুর : ছাত্র অধিকার পরিষদ একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। এখনো আমাদের রাজনৈতিক দল গঠন হয়নি। ছাত্র অধিকার পরিষদে যারা ছিল তারাই জাতীয় রাজনীতিতে যাচ্ছে। আমাদের যেহেতু অলটারনেটিভ উইং আছে সেক্ষেত্রে ছাত্র অধিকার পরিষদ ছাত্রদের দাবিদাওয়া নিয়ে কাজ করবে। ছাত্রদের পাশাপাশি গণমানুষের অধিকার নিয়েও কাজ করবে।
ইত্তেফাক : আপনারা একটি নতুন রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষণা করেছেন। তার সামগ্রিক অবস্থা কী?
নুর : আমাদের ইতিবাচক অর্জন রয়েছে। আমরা নামসর্বস্ব কোনোকিছু করতে চাই না। রাজনৈতিক দল করার জন্য যে কম্পোনেন্টগুলোর প্রয়োজন হয় সেগুলো নিয়ে কাজ করা শুরু করেছি। আমরা ইতিমধ্যে ছাত্রদের নিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদ, যুবকদের নিয়ে যুব অধিকার পরিষদ, প্রবাসীদের নিয়ে প্রবাসী অধিকার পরিষদ, শ্রমিকদের নিয়ে শ্রমিক অধিকার পরিষদ গঠন করেছি। তাছাড়া পেশাজীবীদের নিয়ে পেশাজীবী অধিকার পরিষদ চূড়ান্ত পর্যায়ে।
