মানিকগঞ্জ নকল প্রসাধনীতে সয়লাব, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোক্তা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৭

স্থানীয় বিভিন্ন শপিংমল এবং দোকানগুলোতে নকল প্রসাধনীতে ছেয়ে গেছে। দেশি এবং বিদেশি কোম্পানির চাহিদাসম্পন্ন পণ্য নকল করে বাজারে ছেড়ে দেওয়ায় ক্রেতারা আর্থিকভাবে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। নকল প্রসাধনীর প্রসারে আসল পণ্য হয়ে পড়ছে কোণঠাসা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চটকদার মোড়কে সাজানো এসব নকল প্রসাধনী ঢাকার চকবাজার থেকে স্থানীয় দোকান ও শপিংমলের মালিকরা সংগ্রহ করে থাকেন। এর মধ্যে দেশি-বিদেশি প্রসাধনীই বেশি। চকবাজারের প্রায় শতাধিক ব্যবসায়ী এসব নকল পণ্য উত্পাদনের সঙ্গে জড়িত। আকর্ষণীয় ক্যান বা মোড়কে আসল প্রসাধনীর নাম কৌশলে সামান্য পরিবর্তন করে চালানো হয় নকল পণ্য। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদেশি পণ্যের খালি কৌটা বা ক্যানে ভরা হয় নকল পণ্য। দাম অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় সাধারণ ক্রেতা সহজেই লুফে নেয় সেসব পণ্য। অচিরেই বাজার থেকে এসব নকল প্রসাধনী বাজেয়াপ্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনিটরিং চায় ক্রেতাসাধারণ।

একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নকল পণ্য বিক্রেতাদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হলেও মানিকগঞ্জে তেমন উদ্যোগ  খুব কম।

 বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের অভিমত, নকল পণ্য ব্যবহারে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি আসল প্রসাধনীও মেয়াদ শেষে ব্যবহার করলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ত্বক ছাড়াও স্বাস্থ্যগত জটিল সমস্যা হতে পারে। যা পরবর্তী সময়ে সঠিক চিকিত্সার মাধ্যমেও আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা থাকে খুব কমই। তাই প্রসাধনী ব্যবহারে কঠোর সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ তাদের। প্রয়োজনে ত্বকের ধরন বুঝে বেছে নেওয়া উচিত প্রসাধনীর ব্রান্ড। আর সেজন্য বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নবী তুলিপ বলেন, ‘ভোক্তার অধিকার নিয়ে আমরা কাজ করি। ভোক্তার অধিকার কোথাও ক্ষুণ্ন হলে আমরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিকারের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি। অভিযুক্ত হলে প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক দণ্ড এবং ভবিষ্যতেও এমন অপরাধ না করার মুচলেকা নেওয়া হয়। নকল প্রসাধনীর বিষয়ে ভোক্তা অধিকারের সমন্বয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’