সম্ভাবনাময় গ্যাস ক্ষেত্র টেংরাটিলা বন্ধ ১৫ বছর

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৩

গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে ‘টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ড। ২০০৫ সালে দুই দফা ‘ব্লো আউট’ এবং পরবর্তীতে কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকোর সঙ্গে মামলাজনিত কারণে এটি বন্ধ হয়ে যায়। গ্যাস ফিল্ডস সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এখন গ্যাসক্ষেত্রটি মূল মালিক সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ফেরত পেতে আর আইনগত বাধা নেই।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, আমরা আমাদের ফিল্ডয়ে উত্পাদনে যেতে চাই। তবে তারা এ বিষয়ে সরকারি সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানান, ক্ষতিপূরণের টাকাটা হাতে আসার অপেক্ষা করছেন তারা।

এদিকে টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডের অপারেটিং রাইটস মূল কোম্পানি এসজিএফএলের কাছে ফেরত দিতে গত ২৮ জুন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের কাছে একটি ডিও দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ।

এতে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও আপনার মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় তত্পরতায় নাইকোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় পাওয়া যায়। মন্ত্রী ইমরান আহমদ আরো উল্লেখ করেন, এসজিএফএলের উত্পাদনরত কূপগুলো হতে গ্যাস উত্তোলনের পরিমাণ কমে আসছে। দেশের মানুষের গ্যাসের চাহিদা পূরণে অবিলম্বে ছাতক গ্যাস ফিল্ডকে সক্রিয় করা দরকার।

ছাতক গ্যাস ফিল্ড টেংরাটিলা ফিল্ড হিসেবে পরিচিত। এ গ্যাসক্ষেত্রের ইস্ট ফিল্ডে প্রায় এক টিসিএফ (ট্রিলিয়ন কিউবিক ফিট) গ্যাস মজুত রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এ গ্যাস ফিল্ডের দুইটি অংশ—ওয়েস্ট ও ইস্ট পার্ট। বিস্ফোরণে ওয়েস্ট ফিল্ডের অনেক গ্যাস পুড়ে গেছে। তবে ইস্ট ফিল্ডে বিপুল গ্যাস মজুত রয়েছে ।

দুর্ঘটনার পর সেখানে এসজিএফএলের পক্ষ থেকে একজন কর্মকর্তা এবং একজন সিকিউরিটি গার্ড নিযুক্ত রয়েছেন। সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড কর্মচারী লীগের সভাপতি আলহাজ মো. হারুন জানান, সরকারের অনুমতি পেলে টেংরাটিলায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্যাস উত্পাদন সম্ভব। এজন্য তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর কাছে আবেদনও করেছেন। এ বিষয়ে সংস্থাটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি উচ্চপর্যায়ে সিদ্ধান্তের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

২০০৩ সালে নাইকো-বাপেক্স যৌথ উদ্যোগে পেট্রোবাংলার সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে ছাতকের টেংরাটিলায় গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের দায়িত্ব নেয়। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও একই বছরের ২৪ জুন এ ফিল্ডে পর পর দুই দফা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে এসজিএফএলের ১০টি কূপের মধ্যে পাঁচটি কূপ থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি উত্তোলিত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ ও পরিমাণ কমে আসছে। এসব গ্যাস কূপের উত্পাদন বন্ধ হয়ে পড়লে দৈনিক ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উত্পাদন কম হবে। এতে দেশের মোট উত্পাদন নেমে দাঁড়াবে ৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে। অথচ ২০০২ সালে দেশে দৈনিক গড়ে ২০০ মিলিয়ন গ্যাস উত্পাদিত হতো। টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ড এসজিএফএলের অধীন করা না হলে কোম্পানির উত্পাদন কার্যক্রম ঝুঁকিতে পড়বে। টেংরাটিলা দাবি আদায় সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নুরুল আমিন অবিলম্বে পরিত্যক্ত এ গ্যাস ফিল্ডে কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।