এমপি নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে যোগ দিলেন কাজী জাফরউল্ল্যার সমর্থকরা

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৬

ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন বলেছেন, ‘আমি নৌকার বিরুদ্ধে রাজনীতি করি না, আমি একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজনীতি করি, যার কাছে ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলার মানুষ দীর্ঘদিন শোষিত ও নির্যাতিত ছিল।’ তিনি বলেন, ‘প্রথম বার তিন থানার মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে কাজী জাফরউল্ল্যাহ ও তার বাহিনীর জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেতে আর দ্বিতীয় বার আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে আমার উন্নয়ন দেখে।’

গতকাল শুক্রবার বিকালে নিজের বাড়ি ভাঙ্গার আজিমনগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামে একটি যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে নিক্সন চৌধুরী এমপির প্রতি আস্থা জ্ঞাপন করে তার সঙ্গে যোগদান করেন চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত (নৌকা) চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ মো. কাউসার। এ সময় নৌকা প্রতীকের রেপ্লিকা ও ফুলের তোড়া এমপির হাতে তুলে দেন মো. কাউসার।

উল্লেখ্য, হাফেজ মো. কাউসার আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম     মেম্বার কাজী জাফরউল্ল্যাহর সমর্থক ছিলেন। অনুষ্ঠানে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে আরো যোগ দেন আওয়ামী লীগের চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়নের সভাপতি মো. রুবেল মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক বাবুল মোল্লা ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম মৃধা।

অনুষ্ঠানে এমপি নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘আমার মাথা থেকে পা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রক্ত। আমার পরিবার আওয়ামী লীগের পরিবার। আজকে অনেক বিএনপি নেতাকর্মীও আমার পিছনে জয়বাংলা স্লোগান দেয়, আমি মনে করি এটা আমার ও জননেত্রী শেখ হাসিনার অর্জন।’ তিনি বলেন, ‘আমি কাজী জাফরউল্ল্যাহর মতো নৌকা বাইনা। আমি বঙ্গবন্ধুর নৌকা বাই। বিভিন্ন প্রতিকূলতা অতিক্রম করেই আমি এলাকাবাসীর জন্য কাজ করছি।’ এ সময় তিনি বিএনপির প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এবার আমি নিক্সন চৌধুরী নৌকার প্রার্থীকে নিয়ে নামছি। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করে শেখ হাসিনাকে উপহার দিব ইনশাআল্লাহ।’ পরে তিনি উপনির্বাচনে তার সমর্থিত প্রার্থী আনোয়ার আলী মোল্লার প্রতি সহমর্মিতা জানান কাউসারকে সমর্থন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য।

ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে যোগদান অনুষ্ঠানে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে হাফেজ মো. কাউসার বলেন, ‘আমি ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্ল্যাহর বিশ্বস্ত হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছি। কিন্তু তিনি (কাজী জাফরউল্ল্যাহ) মানুষের প্রতি সম্মান দেখাতে পারেন না। করোনা দুর্যোগের গত ছয় মাস তিনি ঢাকার বাসা থেকে বের হননি। অথচ নিক্সন চৌধুরী প্রতিটি অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিয়ে আসছেন। যার রাজনীতি করি সে যদি ঘরে বসে থাকে তাহলে জনগণের কাছে আমাদের যাওয়ার কোনো অবস্থা থাকে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন নির্বাচনের আগে আমার উপলব্ধি হয়েছে এমপি নিক্সন চৌধুরীর সমর্থন ছাড়া এ নির্বাচনে জেতা সম্ভব নয়। তাই অনেক ভেবেচিন্তে পরামর্শ করে আমি এমপির সঙ্গে দেখা করেছি এবং যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর মুখে হাসি ফোটাতে বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র এমপি নিক্সনের হাত ধরেছি আমি।’