গণফোরামের দলীয় প্যাডে তিন নেতার ডাকা আজ শনিবারের ‘বর্ধিত সভা’কে ‘ভুয়া ও জালিয়াতি’ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গতকাল শুক্রবার ইত্তেফাককে ড. কামাল বলেন, ‘আমাদের দলের প্যাড ব্যবহার করে কোনো সভা ডাকার অধিকার তাদের নেই। আমরা কোনো বর্ধিত সভা ডাকিনি। এটা একেবারেই ভুয়া।’
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে বর্ধিত সভা ডেকেছেন গণফোরামের তিন নেতা—সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু এবং সাবেক নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। গতকাল গণফোরামের প্যাডে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সকাল ১০টায় অনুষ্ঠেয় এ সভায় দলের জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, যুগ্ম-আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও সংগঠকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সভা শেষে দুপুর ১টায় সংবাদ সম্মেলনও ডেকেছেন এই তিন নেতা।
সুব্রত চৌধুরী গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ‘আজকের বর্ধিত সভায় কামাল হোসেনকেও আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি। গঠনতান্ত্রিকভাবে দল পরিচালনার জন্য আমরা স্যারকে বারবার বলেছি, লিখিতও দিয়েছি। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। দলের কাউন্সিলের পর সাধারণ সম্পাদক (ড. রেজা কিবরিয়া) একবারের জন্যও পার্টি অফিসে যাননি। দলের সম্পাদকমণ্ডলীর, স্থায়ী কমিটির কিংবা কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো সভা পর্যন্ত ডাকা হয়নি। বরং কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচনা ছাড়াই প্রেসিডিয়াম সদস্য পর্যন্ত নিয়োগ করা হয়েছে। সেজন্য বলছি—এ পরিস্থিতি একদিনে হয়নি। আমাদেরকে এ পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।’
সুব্রত চৌধুরীর এ বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, ‘কাউকে কোথাও ঠেলে দেওয়া হয়নি। ওনারা যেখানে যেতে চান যেতে পারেন। এটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু আমাদের দলের নাম, প্যাড ব্যবহার করছেন কেন? এটা তো হয় না।’
আজকের সভা শেষে নতুন কোনো কমিটি ঘোষণা করা হবে কি না, জানতে চাইলে সুব্রত চৌধুরী জানান, নতুন কমিটি আপাতত ঘোষণা করা হবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সভায় যোগ দেওয়া নেতাদের কাছ থেকে আমরা মতামত নেব। সেই মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।’ তিনি বলেন, আমরা এখনো চেষ্টা করছি বিষয়টির সমাধান করতে। কামাল হোসেনকে বোঝানোর চেষ্টা করছি।
দলে ভাঙন রোধে দফায় দফায় বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। এর আগে ২৩ আগস্টও ড. কামালের বাসায় তিন নেতা বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকেও সমঝোতা হয়নি।
