চট্টগ্রামে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজে ফের গতি

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৯

চট্টগ্রাম মহানগরীতে সরকার গৃহীত অন্যতম বৃহত্ মেগাপ্রকল্প এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজে গতি সঞ্চার হয়েছে। শুরু হয়েছে পতেঙ্গা অংশ থেকে ক্রমান্বয়ে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ গার্ডার বসানোর কাজ।

নগরীর লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরমুখী প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পতেঙ্গা অংশে ৪টি গার্ডার বসানো হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে গার্ডার বসানোর কাজ উদ্বোধন করেন প্রকল্পটি বাস্তবায়নকারী সংস্থা চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ। রাতে ২টি গার্ডার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে স্থাপন করা হয়। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার এই মেগাপ্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরীতে বন্দর ও বিমান বন্দর অভিমুখে যানজট নিরসনসহ বহদ্দারহাট থেকে পতেঙ্গায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে জনসাধারণ যাতায়াত করতে পারবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিডিএ-এর প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামসও উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প পরিচালক এবং সিডিএ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পতেঙ্গা অংশে প্রথমবারের মতো ৪টি গার্ডার বসানো হচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে গার্ডার বসানোর কাজের উদ্বোধন করার পর দুটি গার্ডার এরই মধ্যে সুষ্ঠুভাবে স্থাপন করা হয়েছে। যে ৪টি গার্ডার স্থাপন করা হচ্ছে সেগুলোর প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৩৫ মিটার থেকে ৪৫ মিটার পর্যন্ত। ৫৪ ফুট প্রস্থের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রতিটি স্প্যানে ৮টি করে গার্ডার স্থাপন করা হবে। দুই পিলারের মধ্যে স্থাপিত এই গার্ডারের ওপর দিয়েই যানবাহন চলাচল করবে। এখন থেকে পিলার নির্মাণের পাশাপাশি যেসব স্থানে পিলার নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে, সেখানে প্রতিদিন রাতে গার্ডার বসানোর কাজ চলবে। তিনি বলেন, পুরো প্রকল্পটিতে ৩ হাজার গার্ডার স্থাপন করা হবে। প্রতিদিনই বসবে ৪টি থেকে ৮টি গার্ডার।  

প্রকল্পসূত্রগুলো ইত্তেফাককে জানায়, সরকার একনেক সভায় ২০১৭ সালের জুলাইয়ে লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দরমুখী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজের অনুমোদন দেয়। এর প্রায় দেড় বছর পর ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সূত্রগুলো জানায়, নির্মাণকাজ শুরুর পর নকশা নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর ও সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের আপত্তি এবং কাজ শুরু করতে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অনুমতি না পাওয়ায় গতি হারায় এই প্রকল্প। মার্চে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় নির্মাণ কাজ। সম্প্রতি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ ফের শুরু হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ১৬ কিলোমিটার পথের ৮ কিলোমিটারজুড়ে নির্মাণ কাজ চলছে। বাকি ৮ কিলোমিটার পথে চলতি বছরের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।