ডিসিসিআইর ওয়েবিনার

বিনিয়োগ আকর্ষণে মানসম্মত ও স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদনের তাগিদ

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৩৯

স্থানীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা সৃষ্টির মাধ্যমে বিনিয়োগ আকর্ষণে স্বচ্ছ ও মানসম্মত আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, নিরীক্ষিত আর্থিত প্রতিবেদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। ভুয়া আর্থিক প্রতিবেদন দেওয়ার মাধ্যমে একদিকে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। আবার একই প্রতিষ্ঠান ব্যাংকে ভুয়া তথ্য দিয়ে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে খেলাপি হচ্ছে। এ অবস্থায় আর্থিক প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক মানের হওয়া দরকার বলে মত দেন তারা। গতকাল শনিবার ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) আয়োজিত এক অনলাইন সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন।

‘ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট ২০১৫ : ব্যাবসায়িক কর্মকাণ্ডে এর প্রভাব’ শীর্ষক ঐ ওয়েবিনারে ব্যবসায়ী, হিসাববিদ ও অর্থনীতিবিদরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। ডিসিসিআই সভাপতি শামস মাহমুদের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী।

শামস মাহমুদ বলেন, মানসম্মত অডিট রিপোর্ট প্রস্তুতকরণে ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

এর ফলে  ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ আর্থিক প্রতিবেদন অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে পারে। এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বহুজাতিক কোম্পানিকে ‘ইন্টারন্যাশনাল একাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড’-এর আওতায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করার প্রয়োজন রয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মানসম্মত রিপোর্ট নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ প্রতিষ্ঠানকে আরো কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

এ সময় আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফারুক বলেন, একই প্রতিষ্ঠানের তিন সেট আলাদা অডিট রিপোর্ট তৈরি করে জমা দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এক সেট এনবিআরে, এক সেট ব্যাংকে ঋণ নেওয়ার জন্য এবং এক সেট দেওয়া হয় আরজেএসসিতে (যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মগুলোর নিবন্ধক)। অনেক অডিট রিপোর্টই আইসিএবির সদস্যদের স্বাক্ষরিত নয়। তবে এ সমস্যা সমাধানে এনবিআরের সঙ্গে যৌথভাবে অনলাইনে আর্থিক প্রতিবেদন যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি (বাংলাদেশ সিকিউরিটজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে এফআরসির কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণ ও দৃশ্যমান করার ওপর জোর দেন। ফাইন্যান্সিয়াল কাউন্সিল এবং এ খাতের পেশাজীবীদের মধ্যে সমন্বয় আরো বাড়ানোর প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের কারণে আগামী ১০ বছরের মধ্যে আইওটি এবং মেশিন লার্নিং ব্যবস্থা আরো সহজলভ্য হবে। ফলে আমাদের প্রথাগত অডিট রিপোর্টের ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার জন্য আইসিএবি ও আইসিএমএবির প্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পানা নিতে হবে। এছাড়া তিনি ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও সুশাসন বাড়ানোর আহ্বান জানান।  

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফআরসির ফাইনান্সিয়াল রিপোর্ট মনিটরিং ডিভিশনের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আহমেদ। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ও ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আফতাব-উল ইসলাম, আইসিএমএবির সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন আকন, ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এন কে মবিন প্রমুখ।