নাইজেরীয় কিশোরের সাজা খাটতে চান পোলিশ ঐতিহাসিক

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:৪৯

শারিয়া আইন তদারককারী পুলিশ বাহিনী উত্তর নাইজেরিয়ার কানো শহরে খোলা পিকআপ ট্রাক নিয়ে টহল দিচ্ছে

ইসলাম ধর্মের অবমাননার দায়ে নাইজেরিয়ার আদালত ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার পর পোল্যান্ডের একজন ঐতিহাসিক প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি এবং আরো কয়েক জন স্বেচ্ছাসেবী পালা করে তার সাজার মেয়াদ খাটতে রাজি আছেন।

পোল্যান্ডের আউশভিত্স স্মৃতি জাদুঘরের পরিচালক ঐতিহাসিক ড. পিওতর সিউইনস্কি বলেছেন তিনি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১১৯ জন স্বেচ্ছাসেবী ঐ কিশোরের হয়ে প্রত্যেকে এক মাস করে কারাগারে সাজা খাটতে রাজি আছেন। তিনি ঐ কিশোরকে ক্ষমা করে দেবার জন্য নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ বুহারিকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছেন।

নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কানো প্রদেশে আগস্ট মাসে এক বন্ধুর সঙ্গে তর্ক করার সময় ঐ কিশোর আল্লাহর প্রতি অসৌজন্যমূলক মন্তব্য করেছিল এই অভিযোগে দেশটির শরিয়া আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

ছেলেটির আইনজীবী এই রায়ের বিরুদ্ধে এ মাসের গোড়ার দিকে আপিল দায়ের করেছেন এই যুক্তি দেখিয়ে যে তার দণ্ডাদেশ শিশু অধিকার ও নাইজেরিয়ার সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। আইনজীবী বিবিসিকে বলেছেন এই আপিলের শুনানির জন্য কোনো তারিখ এখনো পর্যন্ত ধার্য করা হয়নি।

‘এই রায় শিশু অধিকার ও শিশু কল্যাণবিষয়ক আফ্রিকান সনদের লঙ্ঘন এবং নাইজেরিয়া প্রজাতন্ত্র যে কেন্দ্রীয় সংবিধান দ্বারা পরিচালিত তারও লঙ্ঘন,’ বলেছেন কিশোরের আইনজীবী কোলা আলাপিন্নি।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফও আদালতের এই রায় জরুরিভিত্তিতে পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে। নাইজেরিয়ার ধর্মনিরপেক্ষ আইনের পাশাপাশি যে ১২টি প্রদেশে ইসলামী শরিয়া আইন ব্যবস্থাও চালু রয়েছে তার একটি হলো কানো প্রদেশ।

 পোলিশ ইতিহাসবিদ কী বলেছেন?

নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টকে লেখা চিঠিতে ড. সিউইনস্কি বলেছেন, তিনি নিজে ঐ কিশোরের কারাদণ্ড ভাগ করে নিতে রাজি আছেন।

‘ঐ কিশোরের বয়স বিবেচনায় নিয়ে ধরে নেওয়া যেতে পারে, সে যা বলেছে, তা জেনে বুঝে বা পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে বলেনি।

‘এ কারণে তার পুরো যৌবনকাল সে কারাগারে কাটাক এই সাজা তাকে দেওয়া উচিত হবে না। এ কারণে সে বাকি জীবন সুযোগ বঞ্চিত হয়ে থাকবে, শারীরিক ও মানসিকভাবে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রেও তাকে একটা কলঙ্কিত জীবন কাটাতে হবে।

‘তবে, যদি আইনের বিচারে শেষ পর্যন্ত তার সাজা বহাল থাকে, এবং তার কথার জন্য তাকে ১২০ মাস কারাগারে কাটাতেই হয় এবং আপনি যদি এই রায় বদলাতে অপারগ হন, তাহলে আমার প্রস্তাব হলো—আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১২০ জন প্রাপ্ত বয়স্ক লোক জোগাড় করব, যারা স্বেচ্ছায় ঐ কিশোরের হয়ে সাজার মেয়াদ খাটবে। এই ১২০ জনের মধ্যে একজন হবো আমি এবং এই ১২০ জন প্রত্যেকে এক মাস করে নাইজেরিয়ার কারাগারে জেল খাটব।

‘এতে ঐ কিশোরের অপরাধের মূল্য একই থাকবে, শুধু জেলখানার ভেতর তাকে পুরো ১০ বছর কাটানোর ভয়াবহতা আমরা এড়াতে পারব,’ তার চিঠিতে লিখেছেন ড. সিউইনস্কি।

এ ধরনের কোনো ঘটনায় আউশভিত্স জাদুঘরের মতো প্রতিষ্ঠানের মন্তব্য খুবই বিরল। এ নিয়ে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।