কান মানুষের পঞ্চেন্দ্রিয়ের মধ্যে একটি। কান যে কোনো শব্দের ব্যাপারে যথেষ্ট সংবেদী। তাই তীব্র শব্দের ফলে কানের পর্দায় তীব্র ধাক্কা দেয় এবং এতে কানের পর্দা ছিঁড়েও যেতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং মায়ের গর্ভে থাকা শিশুর জন্য প্রচণ্ড রকম শব্দ খুবই ক্ষতিকর। গবেষণায় জানা গেছে, যারা তীব্র শব্দের মধ্যে বসবাস করে তাদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, আচরণে অস্বাভাবিকতা এবং মানসিক উত্তেজনা দেখা দেয়। দুশ্চিন্তা, উগ্রতা, উচ্চ রক্তচাপ, শ্রবণশক্তি হ্রাস ও ঘুমের ব্যাঘাতসহ নানা ধরনের সমস্যায় ভোগে। এছাড়া স্মরণশক্তি হ্রাস এবং মানসিক অবসাদও ঘটে।
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি শব্দদূষণ ঘটে যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহারের দরুন। যদিও হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়াও অযথা মাইক বাজানো, উচ্চস্বরে গান-বাজনা করা, গাড়ির ইঞ্জিনের বিকট শব্দ, রেলগাড়ির শব্দ এবং কারখানার মেশিনের আওয়াজ ইত্যাদিতেও শব্দদূষণ হয়ে থাকে। শব্দদূষণ রোধে কঠোরভাবে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশ খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। জনশূন্য স্থানগুলোতে কারখানা স্থাপন করতে হবে। অযথা মাইক বাজানো এবং উচ্চস্বরে গান বাজানো থেকে বিরত থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে জনসাধারণকে।
মুন্সী মুহাম্মদ জুয়েল
ডিপার্টমেন্ট অব ফিলোসফি,
চট্টগ্রাম কলেজ
