আবারও রাজধানীতে সিটিং সার্ভিসের নামে চলা গণপরিবহনগুলোতে বাড়তি ভাড়া আদায়ের নামে শুরু হয়েছে নৈরাজ্য। বাসে উঠলেই ওয়েবিলের (গাড়ির সিরিয়াল নির্ধারণ, যাত্রীর সংখ্যা লেখা) দোহাই দিয়ে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। আর এ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ে প্রতিনিয়ত পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীদের মধ্যে ঘটছে বাগিবতণ্ডা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা গড়াচ্ছে হাতাহাতিতে। গণপরিবহনের সুপারভাইজাররা ওয়েবিলে স্বাক্ষর করে দিলে পরবর্তী চেকপোস্টের আগে যেখানেই যাত্রী নামুক না কেন তাদের গুনতে হচ্ছে পুরো ভাড়া। তা সে কয়েক গজ পরে নামলেও।
জানা গেছে, গাড়ির যাত্রীসংখ্যা লেখার পর নির্দিষ্ট গন্তব্য ছাড়া দরজা খোলা নিষেধ থাকলেও হেলপার-কন্ডাক্টররা তা মানছে না একেবারেই। এছাড়া এক স্থান থেকে ওয়েবিল লেখার পর পরবর্তী গন্তব্যের আগে আর যাত্রী ওঠানোর নিয়ম না থাকলেও মানা হচ্ছে না তাও। অনেক সময় বাসের আসনসংখ্যার চেয়ে বাড়তি যাত্রী উঠিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। অথচ তার পরও নেওয়া হয় অতিরিক্ত ভাড়া। এ নিয়ে প্রায়ই বাস কর্মচারীদের সঙ্গে যাত্রীদের বাগিবতণ্ডা করতে দেখা যায়। বিষয়টি নিয়ে ট্রাফিক পুলিশও উদাসীন।
এ ব্যাপারে বাসের হেলপাররা জানান, ওয়েবিলে স্বাক্ষর হয়ে গেলে পুরো ভাড়া দিতেই হবে। অন্যথায় মালিকরা তাদের বেতন থেকে টাকা কেটে নেন। অথচ ওয়েবিল লেখার পর যেসব যাত্রী ওঠেন তাদেরও দিতে হয় পুরো ভাড়া। আবার অন্য সুপারভাইজারের কাছে পৌঁছানোর আগে বাস থেকে নেমে গেলেও গুনতে হয় বাড়তি ভাড়া।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ওয়েবিলের নামে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, গুলিস্তান থেকে ছেড়ে আসা বাসে শাহবাগ নামলেও ফার্মগেটের সমপরিমাণ ভাড়া দিয়ে নামতে হয় যাত্রীদের। এমনকি তার আগে নামলেও দিতে হয় একই ভাড়া। এটা রীতিমতো দিনেদুপুরে ডাকাতির মতো ঘটনা। যা সরকারিভাবে অনুমোদনবিহীন। কোনোভাবেই এমনটি মেনে নেওয়া যায় না।
ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম নুরু বলেন, ওয়েবিলের ব্যাপারে কয়েকটি ভাগ আছে। তবে ওয়েবিলের মূল কারণ হলো গাড়ির মধ্যে যাতে প্রতিযোগিতা না হয়। নির্ধারিত স্থানে নিয়োজিত সুপারভাইজার গাড়ি উপস্থিতির সময় লিখে দেবেন বিলে। পাশাপাশি গাড়ির যাত্রীর সংখ্যাও তাতে উল্লেখ থাকবে। যাত্রীদের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, যদি আসন খালি থাকে তবে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তোলা যাবে। আর আসন পূর্ণ থাকলে গাড়ি সরাসরি গন্তব্যে চলে যাবে। তবে তিনি বলেন, দু-একটি গাড়িতে সমস্যা আছে, যা অস্বীকার করার উপায় নেই।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ২০১৬ সালের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকার বাস ও মিনিবাসের নির্ধারিত ভাড়া ছিল কিলোমিটারপ্রতি ১ টাকা ৭০ পয়সা। কিন্তু যাত্রীদের অভিযোগ ছিল, নির্ধারিত হারের চেয়েও বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ‘গেটলক’ ও ‘লোকাল’ নামে কোনো কিছু ছিল না ভাড়াবিষয়ক প্রজ্ঞাপনে। অথচ গেটলক বা সিটিং সার্ভিসের নামে নিজেদের তৈরি নিয়মে যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকেন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।
সরজমিনে দেখা গেছে, সদরঘাট, গুলিস্তান, শাহবাগ, নীলক্ষেত, ফার্মগেট এবং ভিআইপি সড়ক, প্রগতি সরণি ও মিরপুর রোডসহ প্রতিটি রুটেই বেড়েছে যাত্রীর চাপ। অফিস সময়ের আগে ও পরে চাপ বেশি দেখা গেছে। এ সময়ে বাসগুলোর সব আসন যাত্রীতে পূর্ণ থাকে। এর পরও দাঁড় করিয়ে যাত্রী নেওয়া ও বাড়তি ভাড়া আদায় থেমে নেই।
