বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে এ বছর চায়ের রপ্তানি বেড়েছে। বাজারও সম্প্রসারিত হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিদেশে বাংলাদেশি চা রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ১৭ লাখ কেজি। গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে চা রপ্তানি হয়েছিল মাত্র ৬ লাখ কেজি। অর্থাত্ এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় তিন গুণ।
চট্টগ্রামের বাংলাদেশ টি বোর্ড এবং চা রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত সূত্রগুলো ইত্তেফাককে জানায়, দেশে করোনাকালীন লকডাউনসহ নানা প্রতিকূলতায় এ বছর চায়ের উত্পাদন টার্গেটের চেয়ে ১ কোটি ২০ লাখ কেজি কম হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি কেজি। তারা জানায়, প্রতি বছর মার্চ থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দেশে চা উত্পাদন কাল। এর মধ্যে উত্পাদনের ভরা মৌসুম এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাস লকডাউন পরিস্থিতিতে উত্পাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ৮০ লাখ কেজি।
২০১৯ সালে বাংলাদেশে চা উত্পাদিত হয়েছিল ৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি। দেশে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাস চা উত্পাদন হ্রাস পায় বলে এ সময়ে উত্পাদন ঘাটতি পূরণ করা যাবে কি না এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলগুলো সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে এ বছর উত্পাদন সর্বমোট ৯ কোটি কেজি পর্যন্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আশ্বিনের শুরুতে সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতকে দেশের চা উত্পাদনের জন্য সহায়ক বলে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায় যে, এতে উত্পাদন ঘাটতি পূরণে চা-বাগানগুলো সক্ষমতা পাবে।
বাংলাদেশ টি বোর্ড সূত্র জানায়, তাদের মনিটরিং অনুসারে চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে দেশে চায়ের নিলাম বাজারগুলোতে চায়ের ভালো মূল্য পাচ্ছে উত্পাদনকারীরা। ভারত, কেনিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চায়ের মূল্য বাড়ারও খবর মিলছে। বাংলাদেশ সাধারণত জাপান, জার্মানি, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ১২টি দেশে চা রপ্তানি করে থাকে। তবে ২০১৯ সালে বাংলাদেশের চা অনেক দেশে রপ্তানি না হওয়ায় বাজার কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। তবে এ বছর পুনরায় ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, গ্রিস, সাইপ্রাসসহ আরো অনেক দেশে চা রপ্তানি হওয়ায় বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে।
চট্টগ্রামের চায়ের বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন ব্যবসায়ী সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের চায়ের মূল্য বেশি ছিল। ফলে বিভিন্ন সূত্র থেকে অভিযোগ ছিল দেশের বাইরে থেকে চোরাপথে চা-পাতা ঢুকছে। ২০১৯ সালে চায়ের মূল্য পরিস্থিতি যেভাবে কমেছে—তা এখনো ২০১৮ সালের মূল্যের কাছাকাছি যেতে পারেনি। ২০২০ সালে চায়ের ভালো মূল্য পাওয়ায় যে প্রত্যাশা ছিল এখন পর্যন্ত সে প্রত্যাশা পূরণে মার্কেট ঊর্ধ্বমুখী হয়নি।
উল্লেখ্য, দেশের সিলেট, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ বৃহত্তর সিলেটে সিংহভাগ চা উত্পাদন হয়ে থাকে। বৃহত্তর সিলেটে চা বাগানের সংখ্যা ১৩২টিরও বেশি। চট্টগ্রামে রয়েছে ২২টি চা বাগান।
