উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে কসাইপট্টি এলাকায় গত শুক্রবার রাতে কয়েক জন ব্যবসায়ীকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলার শিকার হয় পুলিশ। হামলায় দুই পুলিশ ও এক আনসার সদস্য আহত হন। এছাড়া জিম্মি পাঁচ ব্যবসায়ীও হামলাকারীদের মারধরে আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশের একটি শটগান ও আট রাউন্ড গুলি ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। সংবাদ পেয়ে রাতেই শ্রীপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হাসানের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের মধ্যে নারীসহ ছয় জনকে আটক এবং ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করে। বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
আটককৃতরা হলেন—শেরপুর জেলার কালীগঞ্জের দমদমা গ্রামের রুশমি আরা, শ্রীপুর উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মনিশা মনি, একই উপজেলার দীঘিপাড়া নয়নপুর গ্রামের ফরহাদ, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাফুয়া গ্রামের তাজুল ইসলাম মোল্ল্যা ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ গ্রামের আব্দুর রহমান।
মারধরে আহত ব্যবসায়ীরা হলেন—কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের আবুল হোসেন রনি, নবিয়াত গ্রামের রনি, চান্দিনা উপজেলার কাতকী গ্রামের মাসুম, কুমিল্লার হোমনা থানার মঙ্গলকান্দি গ্রামের ফয়সাল এবং লক্ষ্মীপুরের রায়পুরা উপজেলার কেওড়া ডুবি গ্রামের ওমর বেপারী।
হামলার শিকার কুমিল্লার দেবীদ্বার থানার নবিয়াদার গ্রামের আবুল হোসেন রনি জানান, তিনি ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকার ‘রাখা ইন্টারন্যাশনাল’-এর মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। লাইসেন্সধারী এ প্রতিষ্ঠান থেকে প্রবাসে বৈধভাবে লোক পাঠানো হয়। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী নোয়াগাঁও এলাকার ইসমাইল হোসেন ও শাহাদত হোসেন নামের দুই জনকে দুবাই পাঠানোর জন্য তাদের কাছ থেকে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কাগজপত্র প্রক্রিয়া করতে গিয়ে করোনাকালীন লকডাউনে তাদের কার্যক্রম আটকে যায়। এতে ঐ দু্ই জনকে বিদেশ পাঠানো সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় ইসমাইল হোসেন তাদের জমা দেওয়া টাকা ফেরত চাইলে ৫০ হাজার টাকা বিকাশ করে ফেরতও পাঠানো হয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ইসমাইল ফোন করে আবুল হোসেন রনিকে আরো লোকজন বিদেশ পাঠানোর ব্যাপারে আলোচনা করার প্রস্তাব ও দাওয়াত দেন। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিকালে রনি তার এক বন্ধুকে নিয়ে শ্রীপুরের নোয়াগাঁও ইসমাইলের বাসায় গেলে ইসমাইল ও তার লোকজন দুই জনকে ঘরের মধ্যে আটকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩০০ টাকা মূল্যের সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায় করে এবং সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে ঐ স্ট্যাম্পে ‘৫ লাখ টাকা পায়’ উল্লেখ করে ঐ দিনই টাকা পরিশোধ করার জন্য তাদের মারধর করে। বিষয়টি জানিয়ে সহকর্মী ব্যবসায়ী মো. ফয়সালকে খবর দিলে পরদিন শুক্রবার রাত ৮টায় ফয়সাল, তার বন্ধু ওমর বেপারী ও মাসুমকে সঙ্গে নিয়ে ইসমাইলের বাড়িতে গেলে তাদেরকেও আটক করে বেধড়ক মারপিট করা হয়। পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে আটককৃতদের একজন ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানায়।
শ্রীপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীপুর থানার টহল পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল খোরশেদ আলম ও এক আনসার সদস্য ইসমাইলের বাড়িতে যান। এ সময় ইসমাইলসহ ৩০/৪০ জন লোক অতর্কিতে পুলিশের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং পুলিশের সঙ্গে থাকা শটগান ও পিস্তলের আট রাউন্ড গুলিভর্তি ম্যাগাজিন ছিনিয়ে নেয়। সংবাদ পেয়ে রাতেই তার নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয় হামলাকারীকে আটক এবং ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় পুলিশ ও ব্যবসায়ীরা বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেছে। মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
