মোস্তাফিজুর রহমান লিটন
সিনিয়র শিক্ষক
বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা
সাহসী জননী বাংলা
১. নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী (১৯৪৭-৭১ পর্যন্ত) নিরীহ বাঙালির ওপর নির্মম অত্যাচার, নিপীড়ন চালিয়েছিল। বীরের জাতি বাঙালি এ অন্যায়কারীদের ক্ষমা করেনি। তারা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সকল অন্যায়ের প্রতিশোধ নিয়েছে।
ক. ‘এসেছি নিজের ভোরে’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে? ১
খ. বাংলাকে ‘সাহসী জননী বাংলা’ বলা হয়েছে কেন? ২
গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সাহসী জননী বাংলা’ কবিতার কোন দৃশ্যপটটির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ৩
ঘ. ‘তোদের রক্তাক্ত হাত মুচড়ে দিয়েছি নয় মাসে’- উদ্দীপক ও ‘সাহসী জননী বাংলা’ কবিতার আলোকে চরণটির যথার্থতা বিশ্লেষণ কর। ৪
ক. ‘এসেছি নিজের ভোরে’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কামাল চৌধুরী।
খ. বাংলার বুকে জন্ম নিয়ে এদেশের সন্তানেরা অফুরন্ত শক্তি-সাহসের অধিকারী হয় বলে বাংলাকে ‘সাহসী জননী বাংলা’ বলা হয়েছে।
বাঙালি চিরদিনই বীরের জাতি। প্রতিটি আন্দোলনে সংগ্রামে বাঙালি জাতি অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের এ সাহসের উত্স অকৃত্রিম দেশপ্রেম। মাতৃভূমি বাংলাকে ভালোবেসেই যেন তাদের দেহ-মনে শক্তি-সাহস সঞ্চারিত হয়। দেশমাতৃকাই যেন তাদের প্রাণে সাহস জোগায়। তাই বাংলাকে ‘সাহসী জননী বাংলা’ বলা হয়েছে।
গ. পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের দৃশ্যপটটির দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সাহসী জননী বাংলা’ কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর অকথ্য অত্যাচার করেছিল। তারা মানুষের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে তাদেরকে উদ্বাস্তুতে পরিণত করেছিল। তাদের নির্মম অত্যাচারের চিত্র ‘সাহসী জননী বাংলা’ কবিতায় চিত্রিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী (১৯৪৭-৭১ পর্যন্ত) নিরীহ বাঙালির ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছিল। অর্থাত্ পাকিস্তানিদের অত্যাচারের দৃশ্যপট এখানে আভাসিত হয়েছে। ‘সাহসী জননী বাংলা’ কবিতায়ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দানবীয় ধ্বংসলীলার কথা বলা হয়েছে। মানুষকে ভিটেমাটি থেকে বিতাড়িত করা, গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া, মাতৃ অপমান, মধ্যরাতের নৃশংস আক্রমণ প্রভৃতি বিষয় আলোচ্য কবিতায় উঠে এসেছে। অর্থাত্ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের চিত্র কবিতায় ফুটে উঠেছে। মূলত ১৯৪৭-৭১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানিরা বাঙালিদেরকে নানাভাবে অত্যাচার, নিপীড়ন করে। বাঙালির ভাষা, স্বাধীনতা সবই কেড়ে নিতে চায় পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী। আর অত্যাচারের দিকটিই উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিক।
ঘ. ‘তোদের রক্তাক্ত হাত মুচড়ে দিয়েছি নয় মাসে’- প্রশ্নোক্ত চরণটিতে পাকিস্তানি নিপীড়ক ও অত্যাচারী শাসকদের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির দীর্ঘ নয় মাসব্যাপী তুমুল যুদ্ধের দিকটি প্রতিবিম্বিত হয়েছে।
পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালিদের রক্তে তাদের হাত রঞ্জিত করেছিল। প্রতিবাদস্বরূপ বাঙালিরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে এবং জয়ী হয়। ‘সাহসী জননী বাংলা’ কবিতায় কবি অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির সংগ্রামী চেতনার দিকটিই তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বীরের জাতি বাঙালি পাকিস্তানিদের ক্ষমা করেনি। বরং তারা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সকল অন্যায়ের প্রতিশোধ নিয়েছে। দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালির ওপর শোষণ ও নিপীড়ন চালিয়েছে। অবশেষে বাঙালি এসবের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে। ‘সাহসী জননী বাংলা’ কবিতায় অন্যায়ের প্রতিশোধ হিসেবে নয় মাসের যুদ্ধের প্রসঙ্গ এসেছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালির নির্মল রক্তে তাদের হাত রঞ্জিত করেছিল। তাই বীর বাঙালিরাও তাদের কলঙ্কিত হাতকে মুচড়ে দিয়েছে নয় মাসে। এখানে, নয় মাসে বলতে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কালকে বোঝানো হয়েছে। আর রক্তাক্ত হাত মুচড়ে দেওয়া বলতে অন্যায়ের প্রতিশোধ নেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। বাঙালি সন্তানদের হত্যা করার এবং বাঙালির ওপর শোষণের খড়গ চালানোর প্রতিরোধ বাঙালি জাতি নিয়েছে। খুনি-অত্যাচারীর কালো হাত ভেঙে বাঙালি বাংলাকে নিজের করে নিতে সক্ষম হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, ‘তোদের রক্তাক্ত হাত মুচড়ে দিয়েছি নয় মাসে’- চরণটি যথার্থ।
