জিদানের ‘সেঞ্চুরি’
স্পোর্টস ডেস্ক
শুরুর হোঁচট সামলে লা লিগায় নিজেদের প্রথম জয়টা তুলে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। অন্তিম সময়ে সার্জিও রামোসের পেনাল্টিতে রিয়াল বেতিসকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে কোচ জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা। এতে করে ফরাসি এই কোচ রিয়ালের কোচ হিসেবে শততম লা লিগা ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছেন।
নিজেদের প্রথম ম্যাচে রিয়াল সোসিয়েদাদের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে বাধ্য হয়েছিল রিয়াল। তবে শনিবার প্রতিপক্ষের মাঠ বেনিতো ভিয়ামারিনে জিদানের দল এগিয়ে যায় ১৪ মিনিটেই, ফ্রেদেরিকো ভালভার্দের গোলে। এরপর অবশ্য বেতিস দারুণ প্রতিরোধই দেখিয়েছে। ৩৫ আর ৩৭ মিনিটে আইসান মন্ডি ও রিকার্ডো কারভালহোর গোলে এগিয়েই যায় স্বাগতিকরা। ৪৮ মিনিটে এমারসনের আত্মঘাতী গোলে সমতা ফেরে ম্যাচে।
সময় যত গড়াচ্ছিল রিয়ালের উদ্বেগ বাড়ছিল ততই। গেল মৌসুমে অন্তিম সময়ে পেনাল্টি থেকে জেতাটা এরকম অভ্যাসই বানিয়ে ফেলেছিল জিদানের দল। সে দৃশ্য আরো একবার মঞ্চায়িত হয় শনিবার রাতে। ৮৪ মিনিটে রামোসের পেনাল্টি থেকে জয় নিশ্চিত হয় দলটির। এরই সঙ্গে ১৪৭তম লিগ ম্যাচে শততম জয়ের দেখা পান কোচ জিদান।
ফরাসি কোচের এ অর্জনে অবশ্য বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না রিয়ালের। ৬৭তম মিনিটে এমারসন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন, এর মিনিট বিশেক পর তো পেনাল্টিই হজম করে বেতিস! দলটির নতুন কোচ ম্যানুয়েল পেল্লেগ্রিনি রিয়ালকে খানিকটা খোঁচা দিয়েই যেন বললেন, ‘পেনাল্টি, লালকার্ড, ভিএআর আর রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে একসঙ্গে লড়াটা কঠিন।’
রেফারিং অবশ্য পুরো ম্যাচেই ছিল খুবই ঢিলেঢালা। এমারসনের আত্মঘাতী গোলের আগে দানি কারভাহাল ক্রস করার সময়ে অফসাইডে ছিলেন বেনজেমা, যা চোখ এড়িয়ে গেছে লাইন্সম্যান-ভিএআর দলের সে গোলেই সমতা ফেরায় রিয়াল। এর মিনিট দুই পর বেনজেমার শট ক্রসবারে লেগে গোললাইন পার হলেও গোল পায়নি রিয়াল।
৬৭ মিনিটে এমারসনের লাল কার্ড আর পেনাল্টি নিয়েও ছিল বেশ ধোঁয়াশা।
পেলেগ্রিনি এতেই হতাশা প্রকাশ করলেন, ‘আমাদের দেখতে হবে এমারসনের গোলের সময়ে বেনজেমা কোন জায়গায় ছিল, কিন্তু দিনশেষে টিভি আর ভিএআরই সিদ্ধান্ত নেয়! অফসাইড রেখাটা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কখনো কখনো সব সিদ্ধান্ত আপনার বিপক্ষে যায়!’
এদিকে জিদান সবকিছুকে দেখছেন ন্যায্য হিসেবেই। বললেন, ‘কাজটা করার জন্যে রেফারি আছেন। আর তাই আমার মনে হয় কাজটা ন্যায্যই হয়েছে। কঠিন এক ম্যাচ ছিল। ৩ পয়েন্ট নিয়ে আমরা খুশি।’
