রাজাকারদের আংশিক তালিকা প্রকাশ বিজয় দিবসের আগেই

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:২৯

এ বছর বিজয় দিবসের আগেই একাত্তরের রাজাকারদের আংশিক তালিকা প্রকাশ করবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে এবার স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর, আলশামসের তালিকা প্রণয়নের মূল কাজটি করবে এই মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তালিকা তৈরি করতে স্থায়ী কমিটির গঠন করা সংসদীয় উপ-কমিটি ইতিমধ্যে প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে। উপ-কমিটি খসড়া তালিকাটি দেবে মূল কমিটিকে। এরপর সেটি যাচাই-বাছাই করে মূল কমিটি তালিকাটি হস্তান্তর করবে মন্ত্রণালয়ের কাছে। মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েক ধাপে তালিকা প্রকাশ করবে।

গতকাল রবিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শাজাহান খান ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে রাজাকারদের কিছু তালিকা পেয়েছি। উপ-কমিটি গঠনের পর আমি বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের সঙ্গে কথা বলেছি। বিভিন্ন জেলায় রাজাকারদের তালিকা সংবলিত বই রয়েছে। সেই সব বইতে যাদের নাম রয়েছে, তারা কেউ কখনো প্রতিবাদ করেননি। সেজন্য এটিকে অথেনটিক ধরে নেওয়া যায়। এছাড়া রেকর্ডরুমেও রাজাকারদের বিষয়ে কিছু তথ্য রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করাটা আমাদের দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি। কয়েকবার ঘোষণা দিয়েও আমরা সঠিক তালিকা দিতে পারিনি। সেজন্য আমরা চাইছি, যারা প্রমাণিত রাজাকার কিংবা যেটা অথেনটিক, সেটি প্রথম ধাপে বিজয় দিবসের আগে আমরা প্রকাশ করব। মোট কথা, প্রক্রিয়াটা শুরু করা দরকার।’গত ৯ আগস্ট রাজাকারের তালিকা তৈরি করতে ছয় সদস্যের এই উপ-কমিটি গঠন করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। উপ-কমিটিরও প্রধান শাজাহান খান। উপ-কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন :রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম, রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু, এ বি তাজুল ইসলাম, ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল ও  মোছলেম উদ্দিন আহম্মদ।

রাজাকারদের তালিকা তৈরির কাজে উপ-কমিটি সংসদ সদস্যদের মধ্যে যারা মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আছেন, তাদেরও কাজে লাগাবে। যুদ্ধকালীন কমান্ডার ও উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড থেকেও তথ্য নেওয়া হবে।

গত বছর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য নিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের ‘বিতর্কিত’ তালিকা প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে তা বাতিল করে সরকার। তালিকা নিয়ে সংসদের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক তখন দুঃখ প্রকাশ করে নতুন করে তালিকা তৈরির কথা জানান।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের এমডির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে উপ-কমিটি

এদিকে গতকালের বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ইফতেখারুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে একটি সংসদীয় উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। শাজাহান খানকে আহ্বায়ক করে গঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন কাজী ফিরোজ রশীদ ও  মোসলেম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।