এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৫৮

পল্লিজননী

 

১. নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :                                                                     

বালকের জ্বর অত্যন্ত বাড়িয়া উঠিল। সমস্ত রাত্রি প্রলাপ বকিতে লাগিল, বলিল, “মা আমাকে মারিস নে, মা। সত্যি বলছি, আমি কোনো দোষ করিনি। পুনরায় ফটিক খালাসিদের মতো সুর করিয়া বলিতে লাগিল, ‘এক বাঁও মেলে না। দো বাঁও মেলে-এ-এ না।” এমন সময়ে ফটিকের মাতা ঝড়ের মতো ঘরের মধ্যে প্রবেশ করিয়াই উচ্চ কলরবে শোক করিতে লাগিলেন।

(তথ্যসূত্র:ছুটি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)                                                                                                                                     

ক. জসীম উদ্দীনের কোন কাব্যগ্রন্থটি বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত

হয়?                                                                                       ১

খ. মায়ের মুখখানি নয়ন নীরে ভাসে কেন?                                            ২

গ. উদ্দীপকটি ‘পল্লিজননী’ কবিতার সাথে কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।                                                                                        ৩

ঘ. “উদ্দীপক ও ‘পল্লিজননী’ কবিতার প্রেক্ষাপট ভিন্ন আঙ্গিকে রচিত”- মন্তব্যটির যথার্থতা যাচাই কর।                                                      ৪

ক. জসীম উদ্দীনের ‘নকশি কাঁথার মাঠ’ কাব্যগ্রন্থটি বিভিন্ন বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।

খ. রুগ্ন ছেলের জীবনের আশঙ্কায় মায়ের মুখখানি নয়ন নীরে ভাসে।

দরিদ্র পল্লিমাতার প্রাণপ্রিয় ছেলেটি গুরুতর অসুস্থ। তাকে সারাদিন সারাক্ষণ শুয়ে থাকতে হয়। রোগ যন্ত্রণায় রাতে সে ঘুমাতে পারে না। অসহায় দরিদ্র মাতা নিদারুণ দারিদ্র্যের কারণে ছেলের উপযুক্ত চিকিত্সা করাতে পারছেন না। তার মনে বেদনার অন্ত নেই। তিনি আল্লাহর কাছে ছেলের রোগমুক্তি কামনায় মসজিদ ও দরগায় মানত করছেন। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার সময় ছেলের প্রতি স্নেহ-করুণায় মায়ের মুখখানি নয়ন নীরে ভাসে।

গ. ‘পল্লিজননী’ কবিতার সন্তানের প্রতি মাতৃস্নেহের দিকটি উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। ‘পল্লিজননী’ কবিতায় হতাশাগ্রস্ত মা অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে সারারাত দারিদ্র্যের কারণে সন্তানের ওষুধটুকু জোটাতে পারেননি। মা তাতেও আশা ছাড়েন না। সন্তানকে সুস্থ করে তোলার জন্য মানত করেন, দরগায় মানেন দান। আল্লাহ-রাসুলের কাছে আকুল প্রার্থনা জানান।

উদ্দীপকেও ফুটে উঠেছে মাতৃস্নেহের গভীর পরিচয়। ছেলে ফটিকের অসুস্থতার খবর শুনতে পেয়ে মা ঝড়ের বেগে ছুটে আসেন। এক মুহূর্তও তিনি দেরি করেননি। কেননা, সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসা ও টান অবিচ্ছেদ্য। সন্তানের মঙ্গল কামনায় মায়ের সাথে অন্য কারো তুলনা হয় না। ‘পল্লিজননী’ কবিতায়ও সন্তানের অসুস্থতায় দুখিনী মা ব্যাকুল হয়ে ওঠেনি। ছেলেকে সুস্থ করে তোলার জন্য মায়ের সবটুকু ভালোবাসা উজার করে দেন। সন্তানের প্রতি মায়ের অকৃত্রিম স্নেহের দিকটির ক্ষেত্রে উদ্দীপক ও ‘পল্লিজননী’ কবিতার সাদৃশ্য বিদ্যমান।

ঘ.সন্তানের প্রতি মায়ের গভীর ভালোবাসার দিকটি উদ্দীপক ও ‘পল্লিজননী’ কবিতায় প্রকাশিত হলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট ভিন্ন আঙ্গিকে রচিত।           ‘পল্লিজননী’ কবিতায় এক দুখিনী মায়ের সন্তানের প্রতি প্রবল ভালোবাসার পরিচয় ফুটে উঠেছে। প্রকৃতির প্রতিকূল পরিবেশ এবং অভাব-অনটনের কারণে অসহায় পল্লিজননী সন্তানের জন্য ওষুধ ও পথ্যের ব্যবস্থা করতে না পারলেও তিনি তার সুস্থতার আশা ছাড়েননি। পল্লিজননী আল্লাহর কাছে আকুল প্রার্থনা করেন এবং দরগায় শিরনি মানত করেন। নিস্তব্ধ থমথমে রাতের প্রতিকূল পরিবেশে মা সন্তানের আরোগ্য লাভের জন্য প্রার্থনা করেন। উদ্দীপকে স্নেহময়ী মায়ের ভালোবাসার পরিচয় পাওয়া যায়। ফটিক অসুস্থ অবস্থায় তার মায়ের কাছে ছিল না। ফটিকের মা যখন এ খবর জানতে পারেন তখন তিনি ঝড়ের বেগে ছেলের কাছে ছুটে আসেন। ‘পল্লিজননী’ কবিতায়ও রুগ্ন ছেলের শিয়রে বসে মা সারারাত হাহাকার করছেন। ছেলেকে সুস্থ করে তোলার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। ‘পল্লিজননী’ কবিতার মতো উদ্দীপকেও মাতৃস্নেহের প্রতিফলন পাওয়া গেলেও কবিতার প্রতিকূল পরিবেশ, অভাব-অনটন এ দিকগুলো উদ্দীপকে উল্লেখ নেই। উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উদ্দীপক ও কবিতায় মাতৃস্নেহের পরিচয় ফুটে উঠলেও উভয়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন।