পাখি

ডাহুক

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৫৮

শাপলা-পদ্ম পাতার ওপর দিয়ে কালো কালো ছানা নিয়ে ডাহুক পাখিকে হেঁটে বেড়াতে শরত্ঋতুতেই অনেক বেশি  দেখা যায়। বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ডাহুক রয়েছে। ডাহুক জলের পাখি। খুব ভীরু। পুকুর, খাল-বিল, জলাভূমি ও নদীর গোপন লুকানো জায়গা এদের খুব প্রিয়। এদের পায়ের নখ খুব বড় আর ধারালো। এ কারণেই খুব সহজেই শাপলা বা পদ্ম পাতায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। এমনকি কচুরিপানার ওপর দিয়েও হেঁটে যায় স্বচ্ছন্দে। হঠাত্ দেখলে মনে হবে যেন পানির ওপর দিয়েই হাঁটছে!

জলাভূমির আশেপাশের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকা এই পাখিটি মাঝারি আকারের। লেজ ছোট। পা লম্বা। পায়ের আঙুলও বেশ লম্বা। পিঠের রং ধূসর থেকে খয়েরি-কালো, মাথা ও বুক সাদা। লেজের নিচের অংশে লালচে আভা। ঠোঁট হলুদ রঙের, ঠোঁটের ওপরে লাল রঙের একটি ছোট্ট দাগ আছে। ডাহুক খুব সুন্দর পাখি। রাতে  ‘কোয়াক’ ‘কোয়াক’ ডাক শুনে সহজেই একে চিনতে পারা যায়। এই ডাক পুরুষ পাখির, যা বর্ষাকাল থেকে শরতের শেষ পর্যন্ত শোনা যায়। একটানা অনেকক্ষণ ডেকে শ্বাস নেয়। ডাহুকের স্ত্রী প্রতিশব্দ ডাহুকি।

মাটিতে, ঝোপের তলায় এরা বাসা তৈরি করে। ছয়-সাতটি ডিম পাড়ে। ডিমের রং ফিকে হলুদ বা গোলাপি মেশানো সাদা। ফোটে ২০-২৪ দিনে। বাবা ডাহুক আর মা ডাহুক মিলে পালা করে ডিমে তা দেয়।  সাদা কালো রঙের এই পাখির ছানারা হয় কুচকুচে কালো। বেজায় চালাক আর দৌড়বিদ ছানারা আত্মগোপনে পারদর্শী, পুরো শরীরটাই তুলতুলে নরম। বয়সী পাখির ওজন ১৯০ গ্রাম। সদ্যোজাত ছানার ওজন হয় গড়ে আট গ্রাম। প্রাপ্তবয়স্ক ডাহুকের খাবার জলজ কচি ঘাসের ডগা-পাতা, শামুক-গুগলি, কেঁচো, পাকা ধান ইত্যাদি। আর ডাহুক-ছানার খাবার পোকামাকড়, শামুক, উদ্ভিদের ডগা আর শস্যদানা।