পেঁয়াজ উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা জরুরি

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২৭

গত বছর সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে হঠাত্ ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিলে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ২৫০/৩০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। এবারও একই কারণে পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা! আমদানির ওপর আমাদের নির্ভরশীলতা কমাতে পেঁয়াজ উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে হবে। দেশে উত্পাদিত  চার-পাঁচ লাখ মেট্রিকটন পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। এই পেঁয়াজ রক্ষা করতে পারলেও আরো অতিরিক্ত ৭/৮ লাখ মেট্রিকটন পেঁয়াজ উত্পাদনের প্রয়োজন পড়বে। কৃষকদের উন্নতমানের বীজ, যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমেই এই অতিরিক্ত উত্পাদনের অনেকটা পূরণ করা সম্ভব। এর বাইরে পেঁয়াজ উত্পাদনে প্রণোদনা এবং ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো কৃষিপণ্যে উত্পাদন নির্ভর করে বাজারদরের ওপর। দুঃখজনক হলেও সত্য, পেঁয়াজের মৌসুমে প্রান্তিক কৃষকরা পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হন। এমনিতেই তুলনামূলকভাবে দাম অনেক কম থাকে। তা সত্ত্বেও পেঁয়াজ আমদানি হলে দাম আরো কমে যায়। ফলে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয় কৃষক। পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের উত্সাহিত করতে অবশ্যই ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। আর এটি করতে হলে মৌসুমে পেঁয়াজের আমদানির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জরুরি। ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া মানেই দেশে মজুতকৃত সব পেঁয়াজ শেষ হয়ে যাওয়া না। এই মুহূর্তে দাম বাড়ার প্রধান কারণ অসাধু ব্যবসায়ীদের কালোবাজারি। আইনশৃঙ্খলা-বাহিনীকে তত্পর হতে হবে। স্থায়ীভাবে পেঁয়াজ উত্পাদনের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিকল্প কিছু নেই।

মো. শহীদুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়