কুমিল্লা মহানগরীর প্রবেশদ্বার সড়ক ও জনপথ বিভাগের আলেখারচর-শাসনগাছা সড়কের দুর্গাপুর এলাকার কয়েক মিটার রাস্তা দেবে গেছে। এ সড়কের ঐ স্থানের বড় বড় গর্তে পানি জমে খানা-খন্দের সৃষ্টি হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য গাড়ির চালক, যাত্রী ও জনসাধারণকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা এবং উলটে যাচ্ছে গাড়ি। ব্যস্ততম এ সড়ক এখন যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, কুমিল্লা-ঢাকা ও কুমিল্লা-সিলেট এবং জেলার পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের জেলা-উপজেলাগুলো থেকে কুমিল্লার শাসনগাছা বাস টার্মিনালসহ নগরীতে আসা-যাওয়ার একমাত্র সড়ক এটি। নগরীর প্রবেশদ্বার আলেখারচর-শাসনগাছা সড়কের পাশে রয়েছে বিএনসিসি সদর দপ্তর, মেডিসিন মার্কেট, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কৃষি গবেষণা কেন্দ্রসহ অনেক সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিদিন এ সড়কপথে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়ক-মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস, অ্যাম্বুলেন্স, প্রাইভেট কারসহ অসংখ্য ছোটবড় যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু ব্যস্ততম এ সড়কের কয়েক মিটার স্থানের ইট-সুরকি উঠে ছোটবড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর টানা বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি ও ময়লাআবর্জনা জমে দুর্ভোগ বেড়েছে। শনিবার আধাঘণ্টার ব্যবধানে দুইটি ইজিবাইক উলটে গর্তের পানিতে পড়ে এক স্কুল শিক্ষকসহ অন্তত আট জন আহত হয়েছেন। এ সড়কে চলাচলকারী কলেজ শিক্ষক মো. কামাল উদ্দিন, ব্যবসায়ী শহিদুল আলম বাবুলসহ অনেকেই বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি বছর খানেক আগে প্রশস্ততা বাড়িয়ে উন্নয়ন করা হয়েছে। কিন্তু কিছু দিন না যেতেই বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যায়। সড়কটির দুর্গাপুর এলাকায় অসংখ্য গভীর গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। দূর থেকে মনে হয়, সড়ক তো নয় যেন জলাশয়। গর্ত ভরাট করে স্বাভাবিক চলাচলের ব্যবস্থাও করছে না সড়ক বিভাগ।
পাপিয়া পরিবহনের গাড়িচালক আতিকুর রহমানসহ কয়েক জন চালক বলেন, এখানে এক গর্ত থেকে আরেক গর্তে হেলেদুলে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। প্রতিদিন গর্তে গাড়ি আটকে যায়, যন্ত্রাংশ ভেঙে গাড়ি অচল হয়ে পড়ে। কখনো ছোট-মাঝারি যানবাহন উলটে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এটি এখন গাড়ির চালক ও যাত্রীদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কটি অবিলম্বে সংস্কারের দাবি জানান তারা। সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, বৃষ্টির পানি জমাট বাঁধার কারণে সড়কের এ অংশটি নষ্ট হয়েছে। জনদুর্ভোগ নিরসনের জন্য সড়কের গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়া অংশ দ্রুত সংস্কার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সহসাই সংস্কার করা হবে।
