রাশেদ জন্ম থেকেই অন্ধ। এক ভাই এবং দু’বোনের মধ্যে সবার ছোট রাশেদ। চার বছরের বালক রাশেদকে বাবার কাছে বসিয়ে রাখতেন মা। বাদ্যযন্ত্রের কারিগর তার বাবা। কাঠ ও অন্যান্য উপকরণে তৈরি এসব জিনিস দেখতে পেত না রাশেদ। হারমোনিয়াম, তবলা ও বেহালার শব্দ শুনে ও বুঝতে পারত পিতার এসব যন্ত্র-নির্মাণ। লালনভক্ত রাশেদের আব্বা। এসব যন্ত্র বাজিয়ে লালনের নানা গানের কলি আওড়াতেন তিনি। ছোটবোন আয়েশা রাশেদের জন্য বেলি, গন্ধরাজ ও গোলাপফুল নিয়ে আসত। নাকে মেলে ধরত সুগন্ধ পাপড়ি। বড়বোন রাবেয়া তাকে হাত ধরে নিয়ে যেত ঘরের বাইরে। কখনো কখনো তাকে বৃষ্টিতে ভেজাত। পূর্ণিমা রাতে রাশেদকে নিয়ে উঠোনে হেঁটে বেড়াতেন মা। এসব নিয়ে জন্মান্ধ রাশেদের আফসোস হতো—কী সুন্দরই না পৃথিবীর রূপ! কত সুন্দরই না প্রকৃতি! চোখের দৃষ্টির জন্য উতলা হয়ে যেত রাশেদ।
একমাত্র ছেলের দৃষ্টির জন্য মরিয়া হয়ে পড়েন আশেক আলীও। অনেক অর্থ খরচ করেন রাশেদের চিকিত্সায়। কিন্তু কিছুই সফল হয় না। কুষ্টিয়ার একই এলাকার দূরসম্পর্কের আত্মীয়া তামান্না। রাশেদের সঙ্গে বিয়ে হয় তামান্নার। ওর মাধ্যমে বিদেশি একটি চিকিত্সাক্যাম্পে চোখের অস্ত্রোপচারের পর সম্পূর্ণ দৃষ্টি ফিরে পায় রাশেদ।
কিন্তু দৃষ্টি ফিরে পাওয়া রাশেদের মনের অবস্থা পুরোপুরি পালটে যায়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, চেনা মানুষের মিথ্যা, প্রতারণা এবং হিংসাত্মক রূপ দেখে রাশেদ উত্তেজিত হয়ে পড়ে।
গোধুলিবেলার রক্তিম আলোয় লালচে অবয়বে তাকায় রাশেদ তামান্নার দিকে।
—আলো চাই না আমি। আগের আঁধারই আমার ভালো!
অলংকরণ :অবিনাশ আচার্য
