স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে জলাতঙ্কে আক্রান্তদের মধ্যে ৮৫ থেকে ৯৫ ভাগই কুকুরের কামড়ের শিকার। এছাড়াও বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বাদুড়, ভোঁদড়, ইঁদুর ও বানর র্যাবিস ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে এবং মানুষসহ অন্য কোনো প্রাণীকে কামড়ালে, আঁচড় দিলে বা লালা কোনো ক্ষতস্থানে লাগলে এ রোগ হয়। এসব জীব-জানোয়ারের মুখের লালায় র্যাবিস ভাইরাস থাকে। এ লালা পুরনো ক্ষত বা দাঁত বসিয়ে দেওয়া ক্ষত বা সামান্য আঁচড়ে রক্তের সংস্পর্শে এলে রক্তের মাধ্যমে শরীরে ছড়িয়ে পড়ে এবং জলাতঙ্ক রোগ সৃষ্টি হয়। তবে পশু কামড়ালেই জলাতঙ্ক হবে এমনটি ভাবার অবকাশ নেই। কারণ আক্রমণকারী পশুকে অবশ্যই জলাতঙ্কের জীবাণু বাহক হতে হবে।
শত বছর ধরেও কুকুর মেরে জলাতঙ্ক প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। ২০১২ সালে উচ্চ আদালত নির্বিচারে কুকুর নিধনকে অমানবিক উলেখ করে তা বন্ধের নির্দেশ দেন। এরপর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে কুকুরকে বন্ধ্যা (প্রজননক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া) করে তাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেওয়া হয়। কুকুরকে জলাতঙ্ক থেকে নিরাপদ করতে বিশ্বব্যাপী জলাতঙ্ক নির্মূলে ‘মাস ডগ ভ্যাক্সিনেশন’ বা ব্যাপক হারে কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে। কোনো এলাকার ৭০ ভাগ কুকুরকে টিকা দিলে ঐ এলাকার কুকুরের মধ্যে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয়। তিন বছরে তিন রাউন্ড টিকা দিলে কুকুর থেকে মানুষ বা কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীতে জলাতঙ্ক সংক্রমণের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। এজন্য অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কুকুরকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। পোষা কুকুর বা প্রাণীকে জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক টিকা নিয়মিত দেওয়া উচিত। কুকুরকে টিকাদানের মাধ্যমে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, জলাতঙ্ক নির্মূলে টিকাদানই মুখ্য।
আর এস মাহমুদ হাসান
শিক্ষার্থী, প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ
