বরগুনায় এবার আউশ ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ও দাম বেশি থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন কৃষকরা। বরগুনা জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৫৫ হাজার হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে ৫৫ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫২৫ হেক্টর বেশি জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। ফলন হয়েছে প্রতি একরে ৭৫ থেকে ৮০ মণ।
বরগুনা সদর, পাথরঘাটা, আমতলী, বেতাগী ও বামনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বেশির ভাগ আউশ ধান কাটা ও মাড়াই হয়ে গেছে। সেখানে আমনের চারা রোপণ করেছেন কৃষকরা।
বরগুনা সদর উপজেলার খাজুরতলা গ্রামের কৃষক সুলতান আহমেদ বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে, দামও পেয়েছি বেশি।’ বেতাগীর চান্দখালি এলাকার বটতলা গ্রামের কৃষক মুসলেম আলী বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আউশ ধানের ফলন ভালো হয়েছে।’ পশ্চিম সোনাখালী গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি ছয় একর জমিতে আউশ ধান চাষ করেছি। এ বছর ফলন ভালো, ধানের দামও বেশি।’ আমতলীর চাওড়া কাউনিয়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘৪০ শতাংশ জমিতে আউশ ধানের চাষ করেছি। গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে।’ বরগুনা ধান আড়তদার সমিতির সভাপতি মিলন বিশ্বাস বলেন, বাজারে আউশ ধানের চাহিদা থাকায় দাম ভালো। প্রতি মণ ধান ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এভাবে দাম থাকলে কৃষক আউশ ধান চাষে আরো আগ্রহী হবেন।
বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ওয়াদুদ বলেন, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে আউশ চাষ হয়েছে। গত আমন ও বোরো মৌসুমে বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় কৃষকরা আউশ ধানের চাষ করেছেন।
