চালের দাম বেঁধে দিল সরকার

আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৫

অবশেষে চালের দাম বেঁধে দিল সরকার। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে চালকল মালিকদের বৈঠকে চালের দর নির্ধারণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে মিলগেটে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৫১ টাকা ৫০ পয়সা ও মোটা চাল ৪৫ টাকা দরে বিক্রি করা হবে। তবে এই দর সম্প্রতি কুষ্টিয়ার মোকামে চালের দর নির্ধারণে গঠিত কমিটির প্রস্তাবিত দরের চেয়ে বেশি। কমিটি মিলগেটে প্রতি কেজি মিনিকেট চাল ৫১ টাকা বিক্রির প্রস্তাব করেছিল। কমিটি জানিয়েছিল, প্রস্তাবিত দরে চাল বিক্রি করলেই মিলারদের যথেষ্ট মুনাফা থাকবে। উল্লেখ্য, দেশে চাহিদার চেয়ে বেশি চালের মজুত থাকলেও                 হঠাত্ করেই চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এ নিয়ে চলতি বছরে প্রায় ৪ বার চালের দাম বাড়ল। করোনাকালে এই সময় এভাবে চালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়ে স্বল্প আয়ের মানুষ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে চালের সবচেয়ে বড় মোকাম কুষ্টিয়ায় চালের দাম বাড়ায় এ অস্থিরতা তৈরি হয়। গত বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে ডেকে হঠাত্ আবার চালের দাম বাড়ানোয় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন। ইচ্ছামতো চালের দাম বৃদ্ধি করায় চালকল মালিকদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়। পরে মিলমালিকদের নিয়ে প্রশাসন চালের দর নির্ধারণে কমিটি করে। কিন্তু কমিটি চালের দর নির্ধারণ করলেও মিলাররা তা মানেননি। এ অবস্থায় গতকাল খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সারা দেশের প্রায় ৩০ জন চালমিল মালিক। সেখানে মিলাররা লোকসানের কারণ দেখিয়ে প্রস্তাবিত দরের চেয়ে দাম বাড়িয়ে চালের দর নির্ধারণ করে। বৈঠকে চালের দাম বাড়ানোর পেছনে মিলমালিক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা একে অন্যকে দোষারোপ করেন।

বৈঠকে কুষ্টিয়া মোকামের চাল উত্পাদনকারী বৃহত্ প্রতিষ্ঠান রশিদ অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী ও বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিলমালিকদের কেন্দ্রীয় সংগঠনের সভাপতি আব্দুর রশিদ, দেশ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী আব্দুল খালেক, মিলমালিক ওমর ফারুক, মফিজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

দেশ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী আব্দুল খালেক জানান, ধানের বাজার দর ধরে উত্পাদিত মিনিকেট চালের কেজিপ্রতি ৫১ টাকা যে দর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছিল তা কোনোভাবেই মানা সম্ভব ছিল না। তবে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যে দর নির্ধারণ হয়েছে তা তারা মানবেন বলে জানান।

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চালের দর নির্ধারণ হলেও গতকাল কুষ্টিয়ার মোকামে মিনিকেট প্রতি কেজি ৫২/৫৩ টাকা, কাজললতা ৪৭/৪৮ টাকা, মোটা আটাশ চাল ৪৬ টাকা ও বাসমতী ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়।