শৈলকুপার মা ও শিশু কল্যাণ হাসপাতাল

উদ্বোধনের দুই বছর পরও চালু হয়নি!

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২০, ০০:৫২

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাঁচেরকোল গ্রামে মুন্সি আশরাফ চৌধুরী ১০ বেডের মা ও শিশু কল্যাণ হাসপাতালটি উদ্বোধনের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি। এতে প্রত্যন্ত গ্রামের মা ও শিশুরা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিস সূত্রে জানা যায়, গ্রাম এলাকার মা ও শিশুদের চিকিত্সা সেবার জন্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কাঁচেরকোল গ্রামে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র হাসপাতাল নির্মাণের একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। মুন্সি আশরাফ চৌধুরীর পরিবার জমি দান করে। সোয়া ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হয়। তিনতলা এ হাসপাতাল ভবনে দামি যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রে সুসজ্জিত করা হয়। এখানে আছে আধুনিক ডেলিভারি রুম, আল্ট্রাসনোসহ নানা পরীক্ষা ও চিকিত্সার ব্যবস্থা। ২০১৮ সালের ২ আগস্ট এ হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হয়। তারপর দুই বছর পার হয়ে গেলেও লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় এটি চালু করা হয়নি। সবকিছু অব্যবহূত অবস্থায় পড়ে আছে। বিদ্যুত্ চলে গেলে নিজস্ব জেনারেটরের সাহায্যে বিদ্যুত্ সরবরাহের ব্যবস্থা পর্যন্ত আছে।

আরো পড়ুনঃখোয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে সেতু প্রতিরক্ষা বাঁধ

স্থানীয় বাসিন্দা রিজিয়া বেগম জানান, বাড়ির পাশে হাসপাতালটি নির্মাণ হওয়ায় খুশি। অনেক দিন ধরে পড়ে আছে, চালু হয়নি। কাঁচেরকোল ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার মোছাম্মত্ সুখজান বেগম বলেন, হাসপাতালটি নির্মিত হলেও চালু না হওয়ায় জটিল প্রসূতিদের কুষ্টিয়া বা ঝিনাইদহে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে গ্রামের দরিদ্র মানুষের অর্থ ব্যয় হয়। তাছাড়া ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে রোগীদের নিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণও। কাঁচেরকোল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার মামুন বলেন, এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে কাঁচেরকোল, দিগনগর, সারুটিয়া, ত্রিবেনী ও মির্জাপুর ইউনিয়নের মা ও শিশুরা চিকিত্সাসেবা পেত। প্রসূতি মায়েরা পেত নিরাপদ ডেলিভারির সুবিধা।

জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. জাহিদ আহম্মেদ বলেন, উদ্বোধনের পর থেকে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ থেকে ডেপুটেশনে এক জন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার দেখভাল করে আসছেন। আগত রোগীদের কিছু ওষুধপত্র দেন। দুই জন মেডিক্যাল অফিসার, এক জন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, এক জন ফার্মাসিস্ট, চার জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকাসহ ১০টি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। নিয়োগ হলে পূর্ণাঙ্গভাবে এটি চালু হবে বলে তিনি জানান।


ইত্তেফাক/এমএএম