সাভারে পৃথক চারটি ঘটনায় দুই নারী ধর্ষণ ও তিন শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় গত বুধবার থানায় পৃথক চারটি মামলা দায়ের হলে পুলিশ মোট ৫জনকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাগুলো ঘটেছে পৌর এলাকার মুক্তিরমোড়, আনন্দপুর, যাদুরচর ও আশুলিয়ার গাজীরচট এলাকায়।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সাভারের মুক্তিরমোড় এলাকায় মুকুল মিয়ার বাড়িতে ওই নারী শ্রমিক তার স্বামীর সাথে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন। তাকে নানা সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল এলাকার লম্পট মহিদুল। মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই নারী শ্রমিকের স্বামী ব্যক্তিগত কাজে বাড়ীর বাইরে থাকায় জোরপূর্বক মহিদুলসহ তার ৫ সহযোগী ঘরে প্রবেশ করে মুখ চেপে ধরে পালাক্রমে তাকে গণধর্ষণ করে। এসময় গণধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয় ধর্ষণকারীরা। পরে বুধবার বিকেলে ওই নারী গণধর্ষণের অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় বুধবার রাতেই সাভারের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলো- নওগাঁর উপজেলার শুভলডাঙ্গা গ্রামের মৃত মিরাজ মণ্ডলের ছেলে মহিদুল মণ্ডল (৪০), নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার কালনা কাটাবাড়ী এলাকার আতোয়ারের ছেলে তরিকুল ইসলাম (২৪) ও দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার শুকদেবপুর এলাকার সোলমান আলীর ছেলে মোজাহারুল ইসলাম (২৫)।
মামলার পলাতক আসামিরা হলেন-নওগাঁ জেলার বাদলগাছি থানার বাসুদেব, মুক্তার ও আলম। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অপর দিকে তেতুঁলঝোড়ার যাদুরচরে এক তরুনীর ধর্ষণের মামলায় তার প্রেমিক আল আহসান মুজাহিদুল ইসলামকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা গেছে, কয়েক মাস আগে মুজাহিদুলের সাথে ওই তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের কথা বলে ওই তরুণ তাঁকে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে নিজের বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করে মুজাহিরুল। এর পর থেকে ওই তরুণী তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। কিন্তু মুজাহিদুল তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে বুধবার রাতে তিনি সাভার থানায় মামলা করলে পুলিশ মুজাহিদুলকে গ্রেফতার করে।
অন্যদিকে সাভারের আনন্দপুর এলাকার একটি বাড়িতে টিভি দেখতে গিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা ও বলাৎকারের শিকার হয়েছে পাঁচ বছরের এক মেয়ে শিশু ও এক ছেলে শিশু। এ ঘটনায় ধর্ষক মনোয়ারুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানা শ্রমিক।
সাভার মডেল থানার এসআই হামিদুর রহমান বলেন, ঘটনাটি ঘটার পর মেয়ে শিশুটির বাবা নিজে বাদী হয়ে মনোয়ারের বিরুদ্ধে মামলা করে। পরে বুধবার বিকেলে ধর্ষক মনোয়ারুল ইসলামকে আটক করে সাভার মডেল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে স্থানীয়রা। আটক মনোয়ারুল রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার ঠাঁকুরবাড়ি গ্রামের নয়া মিয়ার ছেলে।
এছাড়া আশুলিয়ার গাজীরচট আয়নাল মার্কেট এলাকায় দারুল কুরআন নূরানী হাফিজিয়া মডেল মাদ্রাসার আট বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে। এঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষক পলাতক রয়েছে।
সাভার মডেল থানা পুলিশ জানায়, ধর্ষণের শিকার দুই নারীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে এবং গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
