ফলসা আমাদের দেশে স্বল্প পরিচিত একটি সাধারণ ফল। ফলসা ফারসি শব্দ। এর বাংলা হচ্ছে ধামানি। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় বাণিজ্যিকভিত্তিতে চাষ হয়। আদি নিবাস এশিয়ার দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল। হিমালয়ের পাদদেশে ভালো জন্মে। ফলসা বুনোফল হিসেবেই পরিচিত। গ্রামে একসময় প্রচুর দেখা গেলেও ইদানীং বেশ দুর্লভ হয়ে উঠেছে ফলসাগাছ।
পথের ধারে, পতিত জায়গায় আপনাআপনিই জন্মায়। বীজ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটি করে পাখিরা। শহরে এ গাছ খুঁজে পাওয়া অনেকটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। এই ফল শিশুদের পাশাপাশি পাখিদেরও সম্ভবত কাকেরাই সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে। ফলসা পাকার মৌসুমে সারা দিনই ওদের আনাগোনা চোখে পড়ে। হয়তো আরো অনেক প্রাণী এ ফল খেয়ে বেঁচে থাকে। শুধু ফলের কথা বাদ দিলেও ফলসাগাছ হিসেবেও অনন্য। বড় বড় পাতার এই গাছ ডালপালা ছড়িয়ে ছাতার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। তামাটে রঙের নতুন নতুন পাতা এ গাছের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
ফলসা মাঝারি আকারের পাতাঝরা গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। বৈজ্ঞানিক নাম Grewia asiatica, এটি Tiliaceae পরিবারের উদ্ভিদ। ছয় থেকে সাত মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। ফলসার পাতা কাকডুমুরের মতো খসখসে, ডিম্বাকৃতি বিপরীতভাবে বিন্যস্ত হয়। পাতার কিনারা সামান্য দাঁতযুক্ত। পাতা দশ থেকে বারো সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা এবং আট থেকে দশ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চওড়া হতে পারে। ফুল ছোট, হলদে ও অল্প লোমযুক্ত। ফল মটরের আকৃতির, গোলাকার ও ধূসর বর্ণের হয়। ফল পাকলে বেগুনি বা নীলাভ কালচে রং ধারণ করে। শীতের শেষে ফুল ধরে এবং এপ্রিল-মে মাসে ফল পাকে। গাছের বাকল লম্বা, আঁশযুক্ত ও ধূসর বর্ণের।
ফলসা তাজা ফল হিসেবে খাওয়া হয়। এই ফলের রস থেকে সিরাপ তৈরি হয়ে থাকে। পাকা ফলসা স্বাদে টক কিন্তু ভিটামিন এ ও ভিটামিন সি-এর ভালো উত্স। আরো রয়েছে প্রোটিন, শর্করা, খনিজ পদার্থ, চর্বি, ক্যালসিয়াম আয়রন। ফলসার বাকলের রস জ্বর, আমাশয় নিরাময়ে কাজ করে।
