নারায়ণগঞ্জে পাইপের ছিদ্র দিয়ে বের হয় গ্যাস

আপডেট : ০১ অক্টোবর ২০২০, ২২:১২

নারায়ণগঞ্জে তিতাস গ্যাসের পাইপে অসংখ্য আণুবীক্ষণিক ছিদ্রের কারণে জেলা জুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক। জেলার বিভিন্ন স্থানে গ্যাস লাইনের পাইপ ছিদ্র হয়ে প্রতিনিয়ত নির্গত হচ্ছে গ্যাস। প্রায়ই আগুন লেগে ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। তিতাস কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিলেও সংস্কার করা হচ্ছে না এসব ছোট ছোট ছিদ্র বা লিকেজ।

নাগরিক কমিটির নেতারা বলেছেন, টাকা না দিলে কোনো সেবা মেলে না নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদের সামনের পাইপের লিকেজ থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে বিদ্যুতের স্পার্ক থেকে আগুন ধরে বিস্ফোরণে ৩৪ জন নিহত ও ৭ জন আহত হওয়ার ঘটনায় এমন লিকেজ নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির পানি জমে থাকা বিভিন্নস্থানে বুদবুদ ওঠায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে গ্যাসের এসব লিকেজ। নগরীর চাঁদমারী-সস্তাপুর-সদর উপজেলা সড়ক, সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল, পাইনাদী, নতুন মহল্লা, হিরাঝিল, নয়াআটি, ফতুল্লার পাগলা, দেলপাড়া, রসুলপুর, দক্ষিণ সেহাচর, লাল খা, রামামারবাগ, কাঠেরপুল, কোতালেরবাগ, লামাপাড়া, ইউনিকম টেক্সটাইলমোড়, তক্কারমাঠ, পিলকুনি, দাপা, ইদ্রাকপুর, জোড়াপুলসহ বিভিন্ন স্থানে তিতাস গ্যাসের ছিদ্র হওয়া পাইপ ও জরাজীর্ণ রাইজার দিয়ে তীব্রগতিতে নির্গত হয় গ্যাস। গ্যাসের ঝাঁঝালো গন্ধ অনুভূত হয় নাকে।

স্থানীয় তিতাস গ্যাস অফিস সূত্রে জানা যায়, অন্তত ৩০ বছর আগে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। পুরোনো পাইপ লাইন দীর্ঘদিনেও আর সংস্কার করা হয়নি। মাটির নিচে থাকার কারণে রিবন নষ্ট হয়ে পাইপ মাটির সংস্পর্শে এসে এমন আণুবীক্ষণিক ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এসব লাইন সংস্কার বা নতুন করে পাইপ বসানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। মেয়াদোত্তীর্ণ পাইপ দিয়ে গ্যাস সরবরাহের কারণে প্রতিনিয়ত গ্যাস নির্গত হয়ে খনিজ সম্পদের অপচয় হচ্ছে।

এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ বি সিদ্দিক জানান, নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ টাকা ছাড়া কোনো কাজ করে না। কোনো অভিযোগ দিলেই তারা টাকা চায়। এটি খুবই দুঃখজনক এবং নিন্দনীয়। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে মানুষ এমনটা প্রত্যাশা করে না। তিনি বলেন, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ যদি এসব লিকেজ সংস্কার না করে তাহলে যে কোনেঅ সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে লিকেজ মেরামত ও পুরোনো গ্যাস সরবরাহ লাইন পরিবর্তন করে নতুন পাইপ স্থাপনের দাবি জানান। একই সঙ্গে তিতাস গ্যাস অফিসে শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যমে খবর এসেছে নারায়ণগঞ্জে ২ লাখের বেশি অবৈধ গ্যাস সংযোগ রয়েছে। তিতাস গ্যাস অফিসের হিসেব অনুযায়ী শুধু নারায়ণগঞ্জে ১৭৯ কিলোমিটার অবৈধ গ্যাস লাইন রয়েছে। এসব গ্যাস লাইন রাতের আঁধারে তিতাস গ্যাসের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই নেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ তিতাস গ্যাস অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম জানান, যেখানেই গ্যাসের পাইপলাইন লিকেজ হয়ে গ্যাস নির্গত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই টিম পাঠিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি সস্তাপুর সড়কের লিকেজ সংস্কারে ঘুষ দাবি করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি বলেন, ৩০ বছরেরও সময় বেশি আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের পাইপ বসানো হয়েছে। পুরোনো হওয়ার কারণে অনেক জায়গায় পাইপ মাটির সংস্পর্শে এসে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিষয়টি তিতাস গ্যাসের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।