ভারতে উত্তরপ্রদেশের হাথরসে ধর্ষণের শিকার এক নারীর বাড়িতে যাওয়ার পথে দুই কংগ্রেস নেতানেত্রী রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াংকা গান্ধীকে আটকের পর মুক্তি দেওয়া হয়। ১৪৪ ধারা ভাঙার অভিযোগে তাদের আটক করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, মাটিতে ফেলে রাহুল গান্ধীকে লাঠিপেটা করা হয়েছে। খবর এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকার
হাথরসের পথে আটক করা হয় রাহুল গান্ধীকে। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন তাকে পুলিশ মাটিতে ফেলে দিয়েছে। এর আগে পথের মধ্যেই পুলিশের সঙ্গে রাহুলের তর্কাতর্কি শুরু হয়। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তা রাহুলকে বলেন, আপনি ১৪৪ ধারা ভাঙছেন। পালটা রাহুল বলেন, ১৪৪ ধারার অপব্যবহার করছেন আপনারা। ধস্তাধস্তির পর রাহুল ও প্রিয়াংকা গান্ধীকে সাদা রঙের মাহিন্দ্রা বোলেরো গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। অন্যদিকে, কিছু কংগ্রেস কর্মী রাস্তা অবরোধ করে বলেন, যতক্ষণ না রাহুলকে ছাড়া হচ্ছে, ততক্ষণ তারা অবরোধ তুলছেন না। পরে রাহুল ও প্রিয়াংকাকে একটি গেস্টহাউজে নিয়ে যায় পুলিশ। গতকাল রাতে সেখান থেকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানায় টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আগেই হাথরসে যাওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাহুল ও প্রিয়াংকা। কিন্তু গতকালই উত্তরপ্রদেশের সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে। তাতেও কর্মসূচি বাতিল না করেই হাথরসে যাওয়ার জন্য যাত্রা করে তাদের নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দাবি, করোনা ভাইরাসের কারণেই রাজ্যে নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। সেই কারণেই রাহুল-প্রিয়াংকার বহর আটকে দেওয়া হয়। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যে প্রবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছিল। সেই নিয়ন্ত্রণ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। গণধর্ষণ ও নির্মম অত্যাচারে হাথরসে দলিত নারীর ঘটনায় দেশ জুড়ে ভারতের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ চলছে। এদিকে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দাবি, ঐ নারীকে ধর্ষণ করা হয়নি বলে ফরেনসিক রিপোর্টে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছিল, পরিবারের বিরোধিতা উপেক্ষা করেই পুলিশ ধর্ষণের শিকার নারীর মরদেহ রাতেই দাহ করে।
