এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আট জনের মধ্যে ছয় আসামির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। এ ছয় জন হচ্ছে শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেক আহমদ, অর্জুন লঙ্কর, রবিউল ইসলাম, আইনুল ও রাজন। দুপুর সাড়ে ১২টায় পুলিশ প্রহরায় তাদের সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার জানান, নমুনা সংগ্রহ করার পর তাদের পুলিশের হেফাজতে নিয়ে আসা হয়।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকালের দিকে প্রাইভেট কারে চড়ে কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে গেলে এক নবদম্পতিকে জোর করে ছাত্রাবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্বামীকে ব্যাপক মারধর করার পাশাপাশি বেঁধে রেখে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী শুক্রবার রাতে বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় এজাহার নামীয় আসামি ছয় জন। সেসঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরো দুই-তিন জনকে আসামি করা হয়।
বিক্ষোভ, অনশন অব্যাহত : এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ ও জড়িতদের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে ঘটনার সাত দিন পরও সিলেটের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সভা, মানববন্ধন ও অনশন কর্মসূচি চলছে। নগরীর টিলাগড় পয়েন্টে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার শাহপরান (র.) ব্লকে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে সমাবেশে বক্তারা বলেন, অল্পসংখ্যক বিপথগামী ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা সৃষ্ট ঘটনার কারণে টিলাগড় তথা সিলেটের ঐতিহ্য মলিন হতে দেওয়া যাবে না। অপরদিকে, ধর্ষকদের বিচারের দাবিতে মৌলভীবাজার শহিদ মিনারে ঘণ্টব্যাপী অনশন পালন করে শেখ বোরহান উদ্দিন সোসাইটি। এছাড়া ঐ গৃহবধূকে গণধর্ষণের প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে আইনজীবীদেরও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
