গতকাল ছিল নগরবাউল জেমসের জন্মদিন। এই করোনাবন্দি সময়ে কীভাবে কাটছে তার নিত্যরুটিন। অন্যান্য কাজ প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। লিখেছেন
তানভীর তারেক
শুভ জন্মদিন। কেমন আছেন?
এই যেমন রেখেছে নিয়তি। যেমনটা থাকার কথা ছিল সেভাবে তো কেউ নেই। তাই এই প্রশ্নটাই এখন অবান্তর। আর জন্মদিনের আড়ম্বর তো কখনো ছিল না। এখন তো প্রশ্নই আসে না।
সত্যিই তাই! এই করোনাবন্দি সময়ে কারো সঙ্গেই কী দেখা হচ্ছে না?
না, সচেতনতার জন্যই করছি না। আমার যে ম্যানেজার ওর সঙ্গেই আমার ৮ মাস কোনো দেখা-সাক্ষাত্ নেই। সবাই ভার্চুয়ালি কথা বলছি। এমনিতে এখন তো স্টেজ শোর কথা কেউ ভাবতে পারছি না। তাই প্র্যাকটিসটাও নিজের ভেতরেই।
তবু আপনার ফটোগ্রাফি, গিটার এসব নিশ্চয়ই থেমে নেই—
ফটো এডিট করছি। নতুন নতুন ডাইমেনশন আনার চেষ্টা করছি। এর ভেতরে এক ধরনের নেশা আছে। সেই নেশাতে পড়ে আছি। এর বাইরে কবিতা পড়া আমার পুরোনো অভ্যেস। সেটা চলমান।
কিন্তু শ্রোতারা তো নতুন কিছু চায়—
এই চাওয়ার শেষ নেই রে। আমি তো মনে করি, আমার অনেক দারুণ দারুণ গান এখনো সেভাবে শ্রোতাতের কাছে পোঁছায়নি। এই বাধ্য অবসরে সেগুলো শুনছে। অনেকে সে ভালো-মন্দ জানাচ্ছে।
আপনার এই ভিন্ন সময়ে নিজস্ব উপলব্ধিটা শুনতে চাই—
মানুষের দর্শন আসলে ভিন্ন ভিন্ন শরীরে ভিন্নরকম। আমি তো দার্শনিক না যে সবার কথা বলতে পারবো। আমি গানের মানুষ। এটুকুই মনে হয়েছে, কোনোকিছুই চূড়ান্ত না। সময়টার সঙ্গে সত্ থেকে কাজ করে যাওয়ার নামই জীবন। জীবনের সবটুকু অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করেন সৃষ্টিকর্তা। আমাদের হাতে এর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই!
নতুন রেকর্ডিং কী আর পাবো না?
আপাতত সম্ভাবনা নেই। অনেক কাজ জমে আছে। সেগুলোও তো শেষ করতে পারিনি। অনেক কম্পোজিশন করে রাখি। কোনোটা ভালো লাগে, কোনোটা লাগে না। প্রতিদিনই তো গিটার নিয়ে বসি। নিজের মতো করে বাজাই।
এদেশের একমাত্র আন্তর্জাতিকভাবে বাংলা রক গানকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন আপনি। এত এত প্রাপ্তির পর জীবনের আক্ষেপ কী কারো থাকে?
কোন উচ্চতায়, কে গেল এসব ভেবে তো গান করিনি জীবনে। এসব ভেবে কাজও করা যায় না। আমি মানুষের জন্য গেয়েছি। আমি আমার বাঙালির জন্য গেয়ে গেছি। গেয়ে যাবো। আমি তাদেরই লোক ছিলাম, আছি, থাকবো। এই যাত্রায় কখন জীবন থেমে যাবে জানি না। তাই আক্ষেপ করে লাভ নেই। জীবনটা চলমান এক নদী। আমরা ভাসমান ভাবনার পথযাত্রী। মানুষের ভালোবাসাই জীবনের সবচেয়ে বড় সঞ্চয়।
আপনার ব্যক্তিজীবন নিয়ে কখনো কিছু বলেন না গণমাধ্যমে। সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ, কথা-বার্তা...
সবই হচ্ছে। সেল ফোনে। ভিডিও কলে। ওরা বেড়ে উঠছে। ওদেরও নিজস্ব এক ভাবনার জগত্ তৈরি হয়েছে।
