পুরোনো নাম বহাল রাখার দাবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার প্রধান সড়ক টি.এ. রোডের মধ্যবর্তী টাউন খালের ওপর অবস্থিত প্রায় অর্ধশত বছরের পুরোনো ব্রিজের নাম হঠাত্ করে পরিবর্তন করায় শহরবাসীর মধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও উঠেছে সমালোচনার ঝড়। গত বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর পরিষদের এক সভায় ঐ ব্রিজটির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘থানা ব্রিজ’। এর আগে গত মঙ্গলবার পৌরসভার পক্ষ থেকে ঐ সেতুর দুই দিকে ‘থানা ব্রিজ’ নামে সাইনবোর্ড টানিয়ে দেওয়া হয়। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, আগে সেতুটি ‘ফকিরাপুল’ নামে পরিচিত থাকায় শুনতে খারাপ লাগে বলে এর নাম পরিবর্তন করে থানা ব্রিজ করা হয়েছে। এই ব্রিজে বসে যাতে কেউ ভিক্ষাবৃত্তি না করতে পারে সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঐ ব্রিজে বসে ভিক্ষা করতেন এমন ২৪ জনকে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার করে টাকা ও পৌরসভার পক্ষ থেকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। ভিক্ষুকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতে থাকা বিতর্কে অনেকে ব্রিজের আগের প্রচলিত নাম ‘ফকিরাপুল’ কিংবা ‘ঘোড়াপট্টির পুল’ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। আবার অনেকে জেলার সমাদৃত কিংবা খ্যাতিমান মানুষের নামেও নামকরণের দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবীণ সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ও সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন বলেন, ‘সেতুটি যেখানে আছে আগে এর কাছেই যাতায়াতের জন্য ঘোড়ার গাড়ি এসে দাঁড়াত। ঘোড়ার গাড়ি দাঁড়াত বলে এলাকাটির নাম ঘোড়াপট্টি হিসেবে পরিচিতি পায়। পরে সেখানে সেতু নির্মিত হলে সেই সেতুটিকে ঘোড়াপট্টির পুল হিসেবেই সবাই বলত। পরবর্তী সময়ে এই সেতুতে ভিক্ষুকরা বসতো বলে ফকিরাপুল নাম হয়ে যায়। আমি মনে করি নাম পরিবর্তনের জন্য সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা যেত। সেতুটির নাম ঘোড়াপট্টির পুল দিলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল থাকত।
এ ব্যাপারে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সভাপতি জহিরুল ইসলাম স্বপন বলেন, ‘এটা অনেক আগে থেকেই ফকিরাপুল হিসেবে লোকমুখে পরিচিত। তবে ফকিরদেরকে কেন্দ্র করে এর নাম হওয়ায় সেটা পরিবর্তন করে ‘থানা ব্রিজ’ নামকরণ করার বিষয়টি মানতে পারি না। কারণ ফকিররাও তো মানুষ। এদিকে নতুন নামকরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সমালোচনা চলছে। জেলা নাগরিক ফোরামের সভাপতি পিযূষ কান্তি আচার্য্য তার দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ঘোড়াপট্টি ব্রিজেরই নামকরণের দাবি জানাচ্ছি, থানা ব্রিজ নয়। কারণ ঘোড়াপট্টির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাস জড়িত।’ কবি মো. মনির হোসেন তার মন্তব্যে লিখেছেন, ‘সেতুটির নামকরণ শহরের কোনো সমাদৃত-খ্যাতিমান মানুষের নামেও হতে পারে।’ নারীনেত্রী নন্দিতা গুহ লিখেছেন, ‘ঘোড়াপট্টির পুল নামটির সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্য জড়িত, হিরন্ময় ইতিহাস আছে। এটা পরিবর্তন করা ঠিক হবে না। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সচিব মো. শামসুদ্দিন বলেন, ‘ফকিরাপুল নামটা শুনতে খারাপ দেখায় বলে বুধবার পৌর পরিষদের সভায় নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সবাই একমত পোষণ করেছেন।
