সোহেল সারোয়ার চঞ্চল
অনেক তর্কবির্তক, আলোচনা, সমালোচনা শেষে বাফুফের নির্বাচনের সুবাদে আজ শনিবার নির্ধারিত হবে আগামি চার বছরের জন্য দেশের ফুটবলের হাল ধরবেন কারা। ফুটবলামোদীদের কাছে তাই দিনটি উত্তেজনা ও কৌতহলের। রাজধানীর এক হোটেলে বেলা ২টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১৩৯ জন কাউন্সিলর বেছে নেবেন দেশের ফুটবল সংগঠকদের পরবর্তী নেতৃত্ব।
প্রায় সব কাউন্সিলর এখন ভোটকেন্দ্র সোনারগাঁও হোটেলে অবস্থান করছেন। গতকাল বিকালে হোটেলটির লবিতে গিয়ে দেখা যায় সেখানে কাউন্সিলরদের ভিড়। সাবেক ফুটবলারদের অনেককেও দেখা গেছে সেখানে।
দেশের ফুটবল নিয়ে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় অনেক আলোচনা সমালোচনা হয়েছে। একজন প্রার্থী বাফুফের বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অনেক সমালোচনা করে, মাঠ গরম রাখলেও শেষদিকে এসে আর দাড়াননি। আবার আরেকটি পক্ষ সরাসরি ফুটবলের সমালোচনা না করে কী করতে চান তা নিয়ে কথা বলেছেন।
কাউন্সিলরদের মন জোগাতে প্রার্থীরা নিজেদের উজাড় করে দিয়ে কথা বলছেন। ফুটবল উন্নয়নের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। ফুটবল মসনদে বসতে পারলে দেশের ফুটবলের আমূল পরিবর্তন করে দেবেন। এসব কথা বলে কাউন্সিলরদের কাছে টানার চেষ্টা রয়েছে সব প্রার্থীর।
সব কাউন্সিলর প্রার্থীর কথায় বুঁদ হয়ে ভোট দেবেন তা নয়। নিজেরাও বিবেক বিবেচনা খরচ করতে চান। বাস্তবতার সঙ্গে কতটুকু খাটে তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন এমন সংখ্যাটাও কম না। ফুটবলে ঘুরে ফিরে একই মুখ থাকেন। তারা ফুটবল থেকে নিচ্ছেন নাকি দিচ্ছেন তা হিসাব করার সময় এখন। কাউন্সিলররা মুখ খুলছেন না।
আপাতত যা পরিস্থিতি তাতে বাফুফের বর্তমান সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিন শক্ত প্রার্থী। কারণ তার বিরুদ্ধে সভাপতি পদে দাড়ানো সাবেক ফুটবলার শফিকুল ইসলাম মানিককে ফুটবলামোদীরা সত্যিকারের চ্যালেঞ্জার হিসেবে দেখছেন না। এ কারণেই অনেকে এও বলছেন যে সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে একজন শক্ত প্রার্থী হলে লড়াইটা ভালো হতো।
কিন্তু টানা তিন বারের সভাপতি সালাহউদ্দিনের বিরোধী প্যানেল এ পদে কাউকে প্রার্থী দেয়নি। নির্বাচনে দুটি প্যানেল হলো ক্ষমতাসীনদের সম্মিলিত পরিষদ ও শেখ মোহাম্মদ আসলামের সমন্বয় পরিষদ। যদিও সমন্বয় পরিষদ সভাপতি পদে প্রার্থী দেয়নি। তাই এ পদে টানা চতুর্থবারের মতো কাজী সালাউদ্দিনের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
এ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন বর্তমান কমিটির সহসভাপতি তাবিথ আউয়াল। গেলবারও তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। তাবিথ বলছেন তার কর্মদক্ষতা বিবেচনার ভার ভোটারদের হাতে।
সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির সহসভাপতি বাদল রায় প্রথমে প্রার্থী হলেও পরে দুই দফায় মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। প্রথমবার তার স্ত্রী মাধুরী রায় প্রত্যাহারপত্র জমা দিয়ে বলেছেন, কাউন্সিলররা যেন বাদলকে ভোট না দেন। পরে বাদল রায় নিজেও সংবাদ সম্মেলন ডেকে অস্বুস্থ্যতার কথা জানিয়ে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন আরেক দফায়।
এছাড়া সিনিয়র সহসভাপতি পদে সাবেক দুই তারকা ফুটবলার সালাম ও আসলামের নির্বাচনকে ঘিরেও ব্যাপক কৌতহল সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। কাউন্সিলরদের আসলাম বলছেন, ভুল পথে যাবেন না। সালাম বলছেন সাংগঠনিক দক্ষতার কথা।
