মহল্লায় শাহ নাসেরকে সবাই মান্যিগণ্যি করে। লেখাপড়া ও ভালো চাকরি ছাড়াও নুরানি ও খান্দানি স্বাস্থ্য-চেহারা ও হ্রাসভারী চলাফেরা তার কারণ। তরুণরা তাঁকে সম্মান ও মর্যাদাও দিয়ে থাকে। রোডমাস্টারদের (রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে যারা আড্ডা মারে) মাঝে মাঝে নসিহতও করেন বখাটেপনা না-করার জন্য। মহল্লার রুবাইয়াত খুব আড্ডাবাজ রোডমাস্টার এবং একদিন তাকে শাহ নাসের হেদায়ত করেছিলেন। সেটি বড় কথা নয়, ঐসব হেদায়েত রুবাইয়াত মনে রাখেনি। আড্ডাবাজদের এমন হেদায়েত অনেকেই করে। রুবাইয়াত শুধু পথেই আড্ডা দেয় না, ফেসবুকেও প্রতাপের সঙ্গে আধিপত্য বিস্তার করে প্রায় সেলিব্রেটি হওয়ার পথে। এটিও বড় কথা নয়, কথা হলো তার ফেসবুক আইডি কয়েকটি আছে। দুটি আইডি দুই মেয়ের নামে। একটি আইডি আইরিন ফারজানা নামে সে অপারেট করে। ফটোশপে এই সেই করে প্রোফাইল পিকটাও দিয়েছে ফাটাফাটি। এটিও বড় কথা নয়, কথা হলো একদিন শাহ নাসের আইরিন ফারজানার আইডিতে রিকু দিয়ে ফ্রেন্ড হলেন এবং এরপর থেকেই তাদের প্রতিদিনই দীর্ঘক্ষণ চ্যাট হয়। এতে উভয়ের মধ্যে নিবিড় বন্ধুত্ব এবং বন্ধুত্ব থেকে আরো ঘনিষ্ট হতে চায় শাহ নাসের। আইরিন ফারজানাও নিজেকে উজাড় করে দিতে চায় এমন কথাও চ্যাটে প্রকাশ করা হয়েছে। বন্ধুত্ব হতেই পারে, সেটাও বড় কথা নয়। একদিন শাহ নাসের বলল, আইরিন এবার তোমার সঙ্গে দেখা না করলে আমি আর বাঁচব না। আমি তোমাকে খুব ঘনিষ্টভাবে কাছে চাই। আইরিন বলল, আগে বাসার বাইরে দেখা করি তারপর দেখা যাবে। সেভাবেই কথা হয় এবং বিকেল চারটায় চন্দ্রিমা উদ্যানে দুজনই যাবে। দুজন যাতে দুজনকে চিনতে পারে সেজন্য তারা লাল রঙের মাস্ক, নীল জামা পরবে। দুপুর থেকেই শাহ নাসের অস্থিরতায় আক্রান্ত হয়। স্ত্রী জিজ্ঞেস করল, এমন অস্থির দেখাচ্ছে কেন? কী হয়েছে তোমার? শাহ নাসের বলল, কিছু হয়নি। তিনটার সময়ই গাড়ি নিয়ে বের হয় চন্দ্রিমা উদ্যানের উদ্দেশে। প্রতীক্ষার সময় বড় দীর্ঘ!
আইরিন আসে ঠিক নির্ধারিত সময়ে। দুজনের ড্রেস কোডও ঠিক আছে। শাহ নাসেরের চোখের আয়তন বড় হয়ে যায় এবং তখন শাহ নাসেরের কাছে গিয়ে মাস্কটি খুলে রুবাইয়াত জিজ্ঞেস করল, স্যার কি কারো জন্য অপেক্ষা করছেন?
শাহ নাসেরের আরক্ত মুখে বলল, না। ইভিনিং ওয়াকে এসেছি।
আচ্ছা স্যার। রুবাইয়াত মুখে মাস্ক লাগিয়ে মনে মনে হাসতে হাসতে সামনে এগিয়ে যায়। পেছনে পড়ে থাকে শাহ নাসেরের দীর্ঘশ্বাস আর একটি দীর্ঘ বিকেল।
অলংকরণ :অবিনাশ আচার্য
