উখিয়ায় বাইক চুরির হিড়িক

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৩

চোরা বাইকে চলছে ইয়াবা বহন

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা 

মিয়ানমারের তৈরি ইয়াবা এদেশের বাজার দখলে নেওয়ার পাশাপাশি ইয়াবা পাচারের নিরাপদ বাহন হিসেবে বাইকের সংখ্যা বেড়েছে ব্যাপকহারে। দুই-তৃতীয়াংশ বাইকের বৈধ কোনো কাগজপত্র না থাকলেও সড়কে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টোকেনে চালিত এসব বাইক সড়কে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তেমনিভাবে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বাইক চোর সিন্ডিকেট। গত এক মাসে এ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৫০টিরও অধিক বাইক চুরির ঘটনা নিয়ে চালকদের মধ্যে বিরাজ করছে অজানা আতঙ্ক, উদ্বেগ, উত্কণ্ঠা। বাইক নিয়ে স্কুলে আসা যাওয়া করে এমন কয়েকজন শিক্ষক জানালেন, তারা বেতনের টাকা দিয়ে বাইক কিনেছেন। এ বাইক যদি চুরি হয়ে যায় তাহলে তাদের পক্ষে আর একটি নতুন বাইক কেনা কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।

জালিয়াপালং ইউনিয়নের চোয়াংখালী গ্রামের অ্যাডভোকেট রাসেল জানান, তার কেনা এফজেড ভার্শন-২ মডেলের ১৫০ সিসি বাইকটি বাড়ির আঙিনায় রাখা হয়েছিল। সকালে উঠে দেখেন সেটি নেই। বেশ কয়েক দিন খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়ারি করেন। ঐ আইনজীবী বলেন, এলাকার কিছু উঠতি বয়সি যুবক, যারা নেশাপানে অভ্যস্ত তারাই মূলত এসব বাইক চুরিসহ ছিনতাই, অপহরণ ও ডাকাতির ঘটনা ঘটাচ্ছে। ইয়াবা পাচারের জন্য ঐ দুর্বৃত্তরা বাসা বাড়ির ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহূত বাইকগুলো চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে।

ছেপটখালী গ্রামের মো. পারভেজ অভিযোগ করে জানান, ‘তার ব্যবহূত  সুজুকি ‘জিক্সার এসএফ’ ১৫০ সিসির নতুন গাড়ি খুব শখের বসে কেনা হয়েছিল। সম্প্রতি ব্যক্তিগত কাজ ছেড়ে কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফিরে গাড়িটি ধুয়ে মুছে বাড়ির আঙিনায় রেখেছিলেন অন্যান্য দিনের মতো। বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে আঙিনায় এসে দেখেন গাড়ি নেই।

অনেকের মতে, ইয়াবা পাচারের জন্য বাইককে নিরাপদ বাহন মনে করে মাদক কারবারিরা ঝুঁকি নিয়ে বাইক চুরি করছে। ইতিপূর্বে এরকম প্রায় এক ডজনেরও অধিক বাইক উখিয়া থানা পুলিশ আটক করেছে।