প্রতারিত ৭৯২ তরুণী
পিনাকি দাসগুপ্ত
ওসমান গনি এবং সুরাইয়া আক্তার স্বর্না। সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী এবং দুই জনই কলেজ শিক্ষার্থী। বাড়ি খুলনা শহরের কাশেমনগর আবাসিক এলাকায়। আর্থিক অবস্থাও ভালো। দেখলে মনে হবে তারা অত্যন্ত সহজ সরল। কিন্তু এর আড়ালে তারা ভয়ংকর প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। তারা ‘ফ্যাশন হাউজ’ ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে পোশাক বিক্রির নামে দুই বছর ধরে প্রতারণা করছে। তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছেন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ৭৯২ তরুণী।
সিআইডি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, অন্যদের দেখাদেখি সখের বশে প্রতারণা শুরু করেছিল। ‘সফল হওয়ায়’ শেষটায় চলমান রেখেছে। এ তথ্য জানিয়েছেন সিআইডির সাইবার পুলিশ বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম। সম্প্রতি সিআইডির সাইবার পুলিশ বিভাগের একটি টিম খুলনা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। সিআইডি রিমান্ডে এনে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িতের কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম বলেন, গ্রেফতারকৃতরা ‘ফ্যাশন হাউজ’ ফেসবুক পেইজে মেয়েদের পোশাকের আকর্ষণীয় ছবি পোস্ট দিয়ে কম দামে বিক্রির লোভনীয় অফার দিয়ে আসছিল। এতে অনেকেই আকৃষ্ট হয়ে অনলাইনে অর্ডার করতেন। শর্ত অনুযায়ী পণ্যের দাম মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আগাম পরিশোধ করলেও আজ অবধি কোনো ক্রেতাই অর্ডার করা পণ্য পায়নি। বরং ঐ পেইজ থেকে অর্ডারকৃতদের ব্লক করে দেওয়া হতো।
সিআইডির এ কর্মকর্তা বলেন, হাজারও ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডির সাইবার পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে। প্রতারণার প্রমাণ পাওয়ায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর খুলনা মহানগরের কাশেমনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওসমান গনি ও তার স্ত্রী স্বর্নাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহূত ৪টি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, ১৬টি সিম উদ্ধার করা হয়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম বলেন, ওসমান গনি এবং স্ত্রী স্বর্না স্বীকার করেছে তারা দুই বছর ধরে ‘ফ্যাশন হাউজ’ নামে ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে হাজারও মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। নিজেদের আড়াল করতে ‘ফ্যাশন হাউজ’ পেইজের নাম পরিবর্তন করে ‘ফেসবুক জোন’ নামে একই ধরনের প্রতারণা করে আসছিল। তাদের দেওয়া তথ্য মতে, তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ৭৯২ জন তরুণী।
সিআইডির বিশেষ সুপার আরো বলেন, এ চক্রটিকে ধরতে আমাদের প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে হাঁটতে হয়েছে। এ ধরনের আরো কয়েকটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অ্যাডিশনাল ডিআইজি কামরুল আহসান বলেন, অনলাইনে কেনাকাটা করতে সাধারণ মানুষকে সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার। অনলাইনে পণ্য বিক্রির সাইটগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। প্রতারিত হলে সিআইডির সাইবার পুলিশকে ১৭৩০-৩৩৬৪৩১ নম্বরে অবগত করার জন্য পরামর্শ দেন সিআইডির এ কর্মকর্তা।
