এমসি কলেজে ধর্ষণ

তিন আসামি আদালতে অর্জুনের স্বীকারোক্তি

আপডেট : ০২ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৫

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে গৃহবধূকে দল বেঁধে ধর্ষণের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল শুক্রবার তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এর মধ্যে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয় প্রধান আসামি ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান ও ৪ নম্বর আসামি অর্জুন লস্করকে। এছাড়া ৫ নম্বর আসামি রবিউল ইসলামকে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় সাইফুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। ধর্ষণে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অর্জুন লস্কর। রাত ১০টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাইফুর ও রবিউল জবানবন্দি দিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।

এর আগে বিকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আসামিদের আদালত প্রাঙ্গণে হাজির করে শাহপরান থানা পুলিশ। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও মিডিয়া কর্মীদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। সূত্র জানায়, ধর্ষণ মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও ৪ নম্বর আসামি অর্জুন লস্করকে গত সোমবার দুপুরে এবং একই দিন বিকালে মামলার ৫ নম্বর আসামি রবিউল ইসলামকে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দ্বিতীয় আদালতে হাজির করলে বিচারক তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া এ মামলায় গ্রেফতারকৃত সন্দেহভাজন আসামি রাজন আহমদ, আইন উদ্দিন এবং এজাহারভুক্ত আসামি মুহিবুর রহমান রনি, ৩ নম্বর আসামি তারেক ও ৬ নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাছুম এখন রিমান্ডে রয়েছেন।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ঐ নববধূ। এ সময় ছাত্রাবাসে তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়। এ ঘটনায় ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরো তিন জনকে আসামি করা হয়। এ পর্যন্ত আট জন গ্রেফতার হলেও এজাহারবহির্ভূত এক আসামি এখনো ধরা পড়েনি।

নিরাপত্তা ও তদারকিতে ঘাটতি ছিল :তদন্ত টিম

ধর্ষণের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত টিম বলেছে, ধর্ষণের ঘটনার ক্ষেত্রে কলেজ প্রশাসনের তদারকিতে ঘাটতি ছিল। অবশ্য অপর্যাপ্ত সীমানাপ্রাচীর, ক্যাম্পাসে আলো ও জনবলের অভাবের কারণেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ক্যাম্পাসকে নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনসহ ছয় দফা সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

কোয়ার্টারটি ছিল সাইফুরের দখলে

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের নবনির্মিত ৭ নম্বর ব্লকে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। এর অদূরেই ৫ নম্বর ব্লকে ছাত্রাবাস তত্ত্বাবধায়কের দেওয়ালঘেরা কোয়ার্টার। এটি নিরিবিলি থাকায় অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে। এই ভবনটি মামলার প্রধান আসামি সাইফুর দখলে নিয়ে সেখান থেকে তার অপকর্ম চালাত। এই ভবন থেকেই পুলিশ অস্ত্র উদ্ধার করে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের পেছনের দিকে তারকাঁটার বেড়া থাকলেও সেখানে যথেষ্ট ফাঁকা ছিল। যেখান দিয়ে অপরাধী চক্রের আনাগোনা সহজ ছিল। নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ সালেহ আহমদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে গতকাল বিকালে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, ‘যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন তাই আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে অপারগ।’

আজ কলেজ অভিমুখে পদযাত্রা

ধর্ষণের প্রতিবাদে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ তিন দফা দাবিতে আজ শনিবার সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে এমসি কলেজ অভিমুখে পদযাত্রা করবে প্রগতিশীল ছাত্রজোট জেলা শাখা। একই ইস্যুতে সিলেট নগরীসহ বিভাগের সব জেলা-উপজেলায় প্রতিদিন পৃথকভাবে প্রতিবাদ, মানববন্ধন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। গণধর্ষণকারী ছাত্রলীগ নেতাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে সিলেটের নাগরিকবৃন্দের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকালে ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।