বরিশাল নগরীর রাজাবাহাদুর সড়কের হীম নীড় চত্বরের পুকুর থেকে দুর্লভ ‘শ্বেতপদ্ম’ (সাদাপদ্ম) কেটে বিলীন করা হয়েছে। বিশাল পুকুরের এ দুর্লভ শ্বেতপদ্ম বিলীন হওয়ায় দর্শনার্থীরা হতাশা প্রকাশ করেছেন। দর্শনার্থীরা জানান, বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ দর্শনীয় এ স্থানটিতে প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ করলেও তারা বাহির থেকেও অপরূপ দৃশ্য দেখতে পারতেন। এ কারণে শ্বেতপদ্ম কেটে ফেলায় প্রকৃতিপ্রেমীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হীম নীড় চত্বরের পদ্মপুকুর ফাঁকা। প্রবেশমুখের সামনেই লেখা রয়েছে ‘প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত’। যেখানে বিকাল হলেই থাকত দর্শনার্থীদের ভিড়, সেখানে ছুটির দিনেও সুনসান নীরবতা। দর্শনার্থী ও এলাকাবাসী জানান, একসময়ে পদ্ম দেখতে এখানে প্রবেশ করা যেত। বর্তমানে গেটের সামনে গেলেই দারোয়ান সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা জানান, বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের হীম নীড় চত্বরের শ্বেতপদ্মপুকুর একটি ঐতিহ্য। একটি জলাশয়ে এত সাদা পদ্ম একটি বিরল দৃশ্য। বরিশালের প্রবীণরা জানান, ব্রিটিশ শাসনামলে নগরীর বান্দরোডসংলগ্ন সাড়ে পাঁচ একর জমিতে স্টিমার কোম্পানির কার্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৬৫ সালে মেরিন ওয়ার্কশপের তত্কালীন ম্যানেজার জার্মান নাগরিক ইলিগনর বিশেষ ব্যবস্থায় মাটির পাত্রে কিছু শ্বেতপদ্মে গাছ সংগ্রহ করে পুকুরের তলদেশে রোপণ করেন। এরপর পুরো পুকুর সাদা পদ্মে ছেয়ে যেতে থাকে। এটি পরিচিতি লাভ করে পদ্মপুকুর নামে। এ ব্যাপারে বরিশাল বিআইডব্লিউটিইএর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন অর রশিদ বলেন, পদ্মর সিজন মে থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত। কচুরিপানা অপসারণ ও মাছ যাতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় এজন্য পুকুর পরিষ্কার করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পদ্মের শেকড় মাটির গভীরে থাকায় পরিষ্কার করায় ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। তিনি দুই বছর ছয় মাস এখানে দায়িত্ব পালনকালে এখানে এভাবেই পরিষ্কার করিয়েছেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. উজ্জল হোসেন ইত্তেফাককে জানান, পদ্ম আমাদের জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ। তাছাড়া সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ এটি। এছাড়াও এটির অনেক ভেষজ গুণাগুণ রয়েছে। পানি পরিষ্কার করার নামে পদ্ম ফুল নষ্ট করে ফেলা ঠিক নয়। যে পুকুরটি পরিষ্কার করার নামে পদ্ম কর্তন করা হয়েছে তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় করলে প্রকৃতি ও কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য দুই-ই বাস্তবায়ন করা যেত। গোড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বরিশাল জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান জানান, তিনি বিষয়টি জানতে পেরে তাত্ক্ষণিক বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলীকে পদ্মপুকুর পরিচর্যায় গুরুত্ব দিতে বলেছেন। পাশাপাশি পদ্মপুকুর জনগণের সম্পত্তি বলে তাকে সতর্ক করে তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
