হাওরে বিয়ের ধুম। প্রায় প্রতিদিনই হাওরের কোনো না কোনো গ্রামে থাকছে ২০/২৫টি বিয়ের আসর। বাংলা শ্রাবণ মাসের শুরু থেকেই আরম্ভ হয়েছে এসব বিয়ের আয়োজন। এখন এ আয়োজন চলছে পুরোদমে। হাওরের হিন্দু-মুসলিম সব গ্রামেই বইছে বিয়ের আনন্দ।
গত দু’বছর হাওরাঞ্চলের মানুষের একমাত্র জীবনজীবিকার উৎস্য কৃষকের উৎপাদিত বোরো ধান অকাল বন্যায় তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যায়। তাই তারা কোনো ভাবে খেয়ে-পড়ে বাঁচলেও বিয়েসহ সামাজিক বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান হয়েছে তুলনামূলক কম।
এবছর হাওরের কৃষকরা তাদের একমাত্র বোরো ফসল ঘরে তুলতে পারায় কৃষক পরিবারে ফিরেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা। তাই বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানের দিকে ফিরছে হাওরের পাড়ের মানুষ। গ্রামে-গ্রামে, পাড়ায়-পাড়ায় দেখা মিলছে আত্মীয়-স্বজনদের মিলনমেলা। নিকলীর হাওরে প্রতিদিনই ২০-২৫টি বিয়ে নৌকা দেখা যায়। ওইসব নৌকাগুলো বাহারী সাজে সজ্জিত। এসব বিয়ের নৌকাগুলো পাড়ি দিচ্ছে বিশাল জলরাশি। সেই সাথে বাজছে সানাই। সানাইয়ের করুন সুর হাওর পাড়ের মানুষের মনে দিচ্ছে অযাচিত আনন্দ।
হাওরাঞ্চালে সাধারণত বর্ষা মৌসুমেই বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠানের অয়োজন হয়ে থাকে। সেই চিরাচরিত নিয়মেই এ ভরা বর্ষায় হাওরের বিশাল জলরাশিতে দেখা মিলছে বাহারী বাজে সজ্জিত এসব বিয়ের নৌকার। আবারো কোনো বিয়ের নৌকাতে দেখা যাচ্ছে আধুনিক বাদ্যযন্ত্র। আগেকার দিনের মতো শুধু মাইক বাঁজিয়ে বিয়ের বজরা যেতে দেখা যায়নি। পাশাপাশি বর-কনের বাড়ি সাজানো হয়েছে আলোকসজ্জায়। চলছে ভাটির সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা।
নিকলী উপজেলার সিংপুর গ্রামের মিয়া হোসেন এবছরেই বিয়ে দিয়েছেন দুই মেয়েকে। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, টানা দু’বছর অকালে ফসলহানীর কারণে বিয়ে উপযুক্ত মেয়েদের বিয়ে দেয়ার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে সম্ভব হয়নি। এবছর জমিতে উৎপাদিত ফসল নিরাপদে ঘরে তুলতে পারায় আমি দুই মেয়ের বিয়ের দিয়েছি।
দামপাড়া গ্রামের কৃষক সুবান মিয়া জানান, আমার পরিবারসহ হাওরের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের সবকিছুই নির্ভর করে একমাত্র বোরো ফসলের উপর। তাই গত দুই বছর ফসল তুলতে না পারায় ছেলে-মেয়ের বিয়ে দিতে পারিনি। এবছর ফসল ভালো হাওয়ায় ও ঘরে তুলতে পারায় আনন্দের সাথে ছেলে বিয়ে দিতে পেরেছি।
ইত্তেফাক/আরকেজি
